ডিভোর্স-এর নিয়ম কানুন/Divorce Under Muslim Law

প্রথমেই তালাক সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনাটি শুধরে নিন। মূখে মূখে তিন বার “তালাক” শব্দটি উচ্চারণ করলে বা একসাথে “বায়েন তালাক” শব্দটি উচ্চারণ করলে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ সাথে সাথে কার্যকরী হয় না। এমনকি, মূখে উচ্চারণ ব্যতিত লিখিতভাবে তালাক দিলেও তা সাথে সাথে কার্যকরী হবে না।

১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টেশন আইন অনুযায়ী এখতিয়াভূক্ত বা সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্টার বা কাজীর মাধ্যমে তালাক দিতে হবে এবং তালাকের নোটিশ স্ত্রী’কে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পৌরসভা চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে।

মুসলিম আইন অনুযায়ী একজন পূর্ণ বয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিস্কের স্বামী যে কোন সময় কোনরূপ কারণ ব্যতিরেকেই তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন। তালাকের ক্ষেত্রে স্বামীর ক্ষমতা একচ্ছত্র, কিন্তু এজন্য আইনের বিধান মেনেই তা করতে হবে। বিধান না মানা শস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্বামী কর্তৃক স্ত্রী কে তালাক দেবার বিষয়ে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারায় বলা হয়ে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকে (স্থানীয় ইউনিয়ন/পৌর চেয়ারম্যান/প্রশাসক) লিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল) প্রদান করবেন।

একই আইনের ৭ (২) ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি নোটিশ প্রদানের এই বিধান লংঘন করেন তবে তিনি এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হবেন।

৭ (৪) ধারা অনুযায়ী, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসী পরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৭ (৩) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না। কিন্তু, তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকে, তাহলে ৭(৫) ধারা অনুযায়ী গর্ভাবস্থা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।

উল্লেখ্য যে, মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ -এর ৭(১) নং ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি চেয়ারম্যান এবং স্ত্রীকে নোটিশ প্রদান না করে তাহলে ৭ (২) ধারা অনুযায়ী স্বামী শাস্তি পাবে ঠিকই, কিন্তু তালাক বাতিল হবে না। উক্ত তালাক কার্যকর হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে অধ্যাদেশের কোথাও নোটিশ প্রধান না করলে তালাক হবে না এই বিধান উল্লেখ নাই। এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি সীদ্ধান্ত রয়েছে। সিভিল রিভিশন নং ৬৯৮, ১৯৯২, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বনাম মোছা:হেলেনা বেগম ও অন্যান্য।

অন্যদিকে, সালিশী পরিষদ কতৃর্ক যদি সমঝোতা না হয় এবং নোটিশ দেবার ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী যদি নোটিশ প্রত্যাহার না করে, তবে ৯০ দিন পরে তালাক কার্যকরী হবে। এই ৯০ দিন পর্যন্ত স্বামী তার স্ত্রী কে ভরণপোষণও দিতে বাধ্য।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইন ১৯৭৪ এর ৬ ধারা অনুসারে বিয়ের মতো তালাকও রেজিস্ট্রি করতে হয়। এখতিয়ারভূক্ত নিকাহ নিবন্ধক অর্থাৎ কাজী নির্ধারিত ফি নিয়ে তালাক রেজিস্ট্রি করবেন এবং ফি ব্যতিত রেজিস্ট্রির প্রত্যয়ন কপি প্রদান করবেন।

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

Divorce Under Muslim Law
​Under the Muslim Law a marriage is dissolved either by the death of the husband or wife, or by divorce. After the death of a wife, the husband may remarry immediately. But the widow cannot remarry before a certain specified period called Iddat expires.

Generally, both the parties to the marriage contract have an opinion for divorce, but the husbands right in this respect is much greater than that of the wife.

The husband can dissolve the marriage tie at his will. A divorce can also take place by mutual agreement.

But the wife cannot divorce herself from her husbands without his consent. She can of course purchase her divorce from her husband and can have the marriage dissolved by Tafweez (delegation).

Marriage may also be dissolved by judicial decree under the Dissolution of Muslim Marriage Act, 1939.

Divorce by husband/wife

A Husband may divorce in the following manner-

Talaq: which is release from the marriage tie immediately or eventually.

Ila: where a husband of sound mind takes a vow that he will abstain from all relationship from his wife.

Zihar: where husband sane and adult compares his wife to his mother or any other female within the prohibited degrees.

A wife may divorce in the following manner-

Talaqetafwiz: Talaq by the wife under the husbands delegated power.

Divorce by judicial decree under dissolution of The Muslim Marriage Act,1939

Following are the grounds on which a marriage may be dissolved under the Marriage Act.

Lian : Where the wife is charged with adultery and the charge is false.She can file a regular suit for dissolution of marriage as a mere application to the court is not the proper procedure.

Fask: The cancellation, abolition, revocation, annulment. Before the passing of the dissolution of Marriage Act, Muslim women could only apply for the dissolution of their marriage under the doctrine of Fask.

WOMANS RIGHT TO DIVORCE UNDER THE DISSOLUTION OF MUSLIM MARRIAGE ACT. 1939

A Muslim woman may file for divorce on the following grounds-

That the whereabouts of the husband have not been known for a period of 4 years

That the husband has neglected or has failed to provide for her maintenance for a period of two years.

That the husband has been sentenced to imprisonment for a period of seven years or upwards.

That the husband has failed to fulfill his marital obligation for a period of three years.

That the husband has been insane for two years or is suffering from leprosy or a virulent form of venereal disease.

That the husband was impotent at the time of marriage and continues to be so.

The women, having being given in marriage by her father or other guardian before she attained the age of 15 years, repudiated the marriage before attaining the age of 18.

Triple divorce

Triple divorce is a recognized but disapproved form of divorce and is considered by the Islamic jurists as an innovation within the fold of Sharia. It commands neither the sanction of Holy Quran nor the approval of the Holy Prophet.

(লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।)

Advertisements
%d bloggers like this: