প্রিয়েমশন বা অগ্রক্রয়ের বিধান/ অগ্রক্রয় মামলায় উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সমূহ

যদি কোনো দলিল হন্তান্তরের মাধ্যমে কার্যকরী হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সেই দলিলটি রেজিস্ট্রির তারিখই হলো অগ্রক্রয় বা Pre-Emption মামলা দায়ের করার অধিকার সৃস্টির তারিখ।

প্রিয়েমশন (Pre-emption) অর্থ অগ্রক্রয়। অগ্রক্রয়াধিকারমূলক অধিকার হলো কোনো ক্রেতার কাছ থেকে আবার ক্রয়ের অধিকার। শরিকের কোনো বিক্রীত জমি বহিরাগত ক্রেতার কাছ থেকে অপর কোনো শরিক কর্তৃক আদালতের মাধ্যমে মূল্য ও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দিয়ে ক্রয় করাকে প্রিয়েমশন বলা হয়। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন-১৮৮৫, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০-এর ৯৬ ধারা এবং ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারায় এ সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ১৮৮৫, ১৯৫০ এবং ১৯৪৯ সালের আইন তিনটির যথাক্রমে ২৬, ৯৬(১৭) ও ২৪(১০) ধারায় মুসলিম আইন দ্বারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার শুধু নিশ্চিত করা হয়নি বরং অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশে প্রিয়েমশন সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিবেচনার বিষয় নয়; বরং আইন দ্বারা সংরক্ষিত অধিকার।

উলি্লখিত ২৬, ৯৬ এবং ২৪ ধারার বিধানের সঙ্গে মুসলিম আইনের মৌলিক পার্থক্য হলো, মুসলিম আইন অনুসারে অগ্রক্রয় করতে হলে আনুষ্ঠানিক দাবি অর্থাৎ মুসলিম আইনের ২৩৬ ধারা মোতাবেক বিক্রয়ের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে অভিপ্রায় বা ‘তলব-ই-মৌসিবত’ ঘোষণা করতে হয়। তলব-ই-মৌসিবত এভাবে পেশ করা চলে, ” আমি আমার শুফার হক দাবি করছি (হেদায়া, ৫৫১)। সাক্ষীর সামনে দাবি করাকে বলে ‘তলব-ই-ইশাদ’। মূল্য ও ক্ষতিপূরণের টাকা মামলায় ডিক্রি হওয়ার আগে আদালতে জমা দিতে হয় না। পক্ষান্তরে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ এবং অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক দাবি উপস্থাপন করতে হয় না। তবে মামলা দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গে (along with the petition for pre-emption) বিক্রীত দলিলে উলি্লখিত জমির মূল্যসহ ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

কখন অগ্রক্রয়ের অধিকার জন্মায় : যখন কেউ সহ-অংশীদার বা শরিক (Co-sharer) ছাড়া তৃতীয় কারো কাছে সমপূর্ণ বৈধ ও ত্রুটিমুক্তভাবে জমি বিক্রি সম্পন্ন করে বিক্রিসংক্রান্ত নোটিশ জারি (Sale notice) করে। তখন অন্য বা অন্যান্য অংশীদার ওই বিক্রির নোটিশ পাওয়ার বা বিক্রির খবর বা তথ্য জানার তারিখ থেকে অগ্রক্রয়ের অধিকার জন্মায়।

অগ্রক্রয়ের আবেদন আদালতে পেশ করার সময়সীমা : বিক্রিসংক্রান্ত নোটিশ জারি কিংবা দলিল পূর্ণাঙ্গভাবে রেজিস্ট্রি অথবা বিক্রয় বিষয় জানার দুই মাসের মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, The State Acquisiton & Tenancy Act, 1950 কার্যকর হয় ১৯৫১ সালের ১৬ মে এবং ওই তারিখ থেকে Bengal Tenancy Act বাতিল হয়। (The new S.A.T Act has repealed the famous Bengal Tenancy Act, l885) এর দীর্ঘদিন পর ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে আলোচ্য ৯৬ ধারার উপধারা ১৮টির মধ্যে ১২টিতে সংশোধনী আনা হয়। সেই সংশোধনী অনুযায়ী প্রতিকার প্রার্থনা বা মামলা করার সময়সীমা চার মাস থেকে দুই মাস করা হয়। ৯৬(১)(বি) ধারা অনুযায়ী কোনো অবস্থায় তিন (তিন) বছরের পর মামলা করা যাবে না।

সময়সীমা ৪ মাস, অতঃপর কমিয়ে দুই মাস, আবার তিন বছরের মধ্যে প্রতিকার প্রার্থনার বিষয়টি কারো কারো কাছে ঘোলাটে বা পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধনীর আগে দলিল নিবন্ধন হওয়ার বা জ্ঞাত হওয়ার চার মাসের মধ্যে মামলা করার সময়সীমা ছিল। এই জ্ঞাত হওয়ার বিষয়টি ব্যাপক ও বিস্তৃত। অর্থাৎ কেউ যদি ১২ বছর পর বিক্রির বিষয় জ্ঞাত হয়, তাহলে ওই জানা থেকে চার মাসের মধ্যে অর্থাৎ দলিলের বিষয় জানার বারো বছর+চার মাস (১২ বছর ৪ মাস) সময় পেতেন। ২০০৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ওই ব্যাপক ও বিস্তৃত সময়সীমার একটি রেখা টানা হয়েছে। ফলে যিনি যখনই বিক্রি বিষয় জানুক, কোনো অবস্থায় তিন বছর পর অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

কে কে এ অধিকার প্রয়োগ করতে পারে : ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী_

ক. বিক্রীত জমির ওয়ারিশ সূত্রে শরিক।

খ. বিক্রীত জমির খরিদ সূত্রে শরিক।

গ. স্থানান্তরিত জমিসংলগ্ন জমির স্বত্বাধিকারী প্রজা।

ওই আইনের ৯৬ ধারা মোতাবেক অগ্রক্রয়ের অধিকার আদায়ে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী (Contiguous) প্রজাদের অগ্রক্রয়ের সুযোগ থাকায় হাজার হাজার মামলার উদ্ভব হয়। মামলার এ সংখ্যাধিক্য বিবেচনায় নিয়ে ২০০৬ সালের ৩৪ নম্বর আইন দ্বারা ওই ৯৬ ধারার ১২টি উপধারা সংশোধন করতে বিক্রীত জমিসংলগ্ন স্বত্বাধিকারীকে অগ্রক্রয়ের মামলা করতে পারবে না। এ বিধান করা হয়েছে। ফলে সর্বশেষ অর্থাৎ ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুধু ওপরে বর্ণিত (ক) ও (খ) দফার শরিকরা এ অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভূমিসংলগ্ন প্রজার অগ্রক্রয়ের অধিকার আর নেই।

মুসলিম আইনের ২৩১ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত তিন শ্রেণীর ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের দাবি করতে পারে।

১. সমপত্তির সহ-অংশীদার [শাফি-ই-শরিক]

২. খালাস বা অনুবন্ধের অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি, যেমন কোনো সড়ক ব্যবহারের অথবা পানি নিষ্কাশনের অধিকারসমপন্ন ব্যক্তি [শাফি-ই-খালিত]; এবং ৩. সংলগ্ন স্থাবর সমপত্তির মালিক [শাফি-ই-জার]; তবে, তাদের ভাড়াটিয়ারা নয়। অথবা কোনো সমপত্তির বে-আইনি দখলদার ব্যক্তিও নয়। [বেঈলি, ৪৮১]। কোনো ওয়াকিফ অথবা মোতোয়ালির অগ্রক্রয়ের অধিকার নেই, কারণ ওয়াকফ সমপত্তির মালিকানা তাহার কাছে বর্তায় না। তবে বিক্রেতার জমি ও শাফির জমির মধ্যে সরকারি জমি থাকলে সংলগ্নতা থাকবে না।

অগ্রক্রয়ের মামলা করার নিয়ম : অগ্রক্রয়ের অধিকার আদায়ের জন্য ওপরে বর্ণিত ব্যক্তিরা ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারা মতে_

ক. হস্তান্তরের বিষয় জানার বা দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার দুই মাসের মধ্যে মামলা দায়ের,

খ. মামলার আবেদনের সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ জমা দিতে হবে,

গ. এ ছাড়া বিক্রয় মূল্যের ওপর বার্ষিক ৮ শতাংশ সরল সুদ জমা দিতে হবে।

১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী_

১) অগ্রক্রয়ের দরখাস্তের সঙ্গে বিক্রীত মূল্যে ওপর ৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ জমা দিতে হয়, ২) অগ্রক্রয়ের দরখাস্ত জমা দেওয়ার সময়সীমা এক মাস, ৩) ক্রেতা, প্রতিপক্ষ খরিদের পর জমির উৎকর্ষ সাধনের কোনো অর্থ ব্যয় করলে তার ওপর শতকরা সোয়া ছয় টাকা হারে সুদ দেওয়ার বিধান আছে।

ওপরের শর্তগুলোর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে প্রিয়েমশনের দরখাস্ত অগ্রাহ্য হবে। এত কিছুর পরও ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ এবং ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারা বিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের মামলা চলে না, যদি_

১. বিক্রীত জমি বসতবাড়ি হয়।

২. অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করার আগে বিক্রীত জমি বিক্রেতার কাছে হস্তান্তরিত হয়।

৩. উক্ত বিক্রয় যোগসাজশী (Collusive) বা জাল (Fraudulent) বিবেচিত হয়।

৪. বিনিময় বা ভাগবাটোয়ারাসংক্রান্ত সম্পত্তি হস্তান্তর হয়।

৫. স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীর বরাবরে উইল বা দানমূলে সম্পত্তি হস্তান্তর করে।

৬. হেবা-বিল-এওয়াজ মূলে হস্তান্তর করলে।

৭. রক্তের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তিন পুরুষের কোনো দান বা উইল মূলে হস্তান্তর করে।

৮. মুসলিম আইনে ওয়াক্ফ এবং ধর্মীয় কারণে বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত হস্তান্তরে।

কোন আদালতে যাবেন : যে আদালতের ‘Suit for recovery of possession’ বা দখল পুনরুদ্ধারের মামলা গ্রহণের এখতিয়ার আছে শুধু সেই আদালত ‘application for pre-emption’ গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ যে জমি নিয়ে প্রিয়েমশন মামলা করা হয়েছে সেই জমি নিয়ে কোনো দখল উদ্ধারের মামলা দায়ের করলে যে আদালতে দায়ের করতে হয় প্রিয়েমশন মামলাটিকে সেই আদলতে দায়ের করতে হবে। আরো সোজা কথায় বলতে গেলে দলিলের মূল্যমান অনুযায়ী এখতিয়ারবান অর্থাৎ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সহকারী জজ, দুই লাখের ঊর্ধ্বে কিন্তু অনূর্ধ্ব চার লাখ পর্যন্ত সিনিয়র সহকারী জজ এবং তদূর্ধ্ব সব পরিমাণ মূল্যমানের জন্য যুগ্ম সহকারী জেলা জজ আদালতে এ মামলা করা যাবে।

আপিলের বিধান : রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬(১২) ধারা অনুযায়ী আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে একবার আপিল করা যাবে। কিন্তু ওই আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আর দ্বিতীয় আপিল করা যাবে না। তবে প্রথম আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী Revision দায়ের করা যায়।

যদি কোনো দলিল ২/১২/১৯৭৫ইং তারিখে রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করা হয় এবং ঐ দলিলটি যদি ২৪/১০১৯৭৯ তারিখে রেজিস্ট্রি হয় এবং অগ্রক্রয় মামলাটি যদি ১৩/২/১৯৮০ইং তারিখে দায়ের করা হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত ঐ মামলাটি তামাদি বলে বারিত করতে পারবে না। {31DLR (AD) (111)}

হোল্ডিং তথা কোনো জমির খন্ড বা খন্ড সমূহের কোনো আংশিক অংশের জন্য অগ্রক্রয়  মামলা করার অনুমোদন এর বিধান নাই। {28DLR 400}

যদি কোনো ক্রেতা কোনো জমি ক্রয় করার পর ঐ জমিটি অগ্রক্রয়কারীর সামনে চাষাবাদ করে থাকে সেক্ষেত্রে ঐ জমি বিক্রয় সম্পর্কে অজ্ঞতা বা অজানার অজুহাতে ১২ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায় না। {33DLR 39}

অগ্রক্রয়  অধিকারটি উত্তরাধিকার সূত্রে অধিকার অর্থাত্‍ কোনো ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের মামলা করে যদি মারা যান সেক্ষেত্রে ঐ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারিগণও ঐ অগ্র্রক্রয় মামলার স্থলাবর্তী হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। {45DLR(AD) 118}

অগ্রক্রয়ের মামলা চালু থাকায় যদি কোনো সহ অংশীদার তার কোনো জমি ফেরত পায় তাহলেও অংশীদারদের অগ্রক্রয়ের মামলার অধিকারের কোনো ক্ষতি হয় না। {47DLR 607}

যদি একই দলিলে কয়েকটি হোল্ডিং বা জমির খন্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকে তাহলে এরূপ জমি খন্ডের সহ অংশীদার ঐ জমি খন্ডের প্রিএমশন মামলা করার জন্য দরখাস্ত করতে পারবেন। ২টি পৃথক জমি খন্ডের জন্য একই দরখাস্তে অগ্রক্রয় মামল করা যেতে পারে। {23DLR 68}

১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারা অনুযায়ী একজন ঘোষিত (Notified) বা অঘোষিত (Non Notified) সহ অংশীদার নোটিশ জারীর পর থেকে ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয় মামলা করতে পারবে এবং হস্তান্তরিত জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিক ও জমিটি হস্তান্তরের বিষয় জানার ৪ মাসের মধ্যে অগ্রক্রয়  মামলার জন্য দরখাস্ত করতে পারবেন ।{21DLR 463}

১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ১১৭ ধারার বিধান অনুযায়ী কোনো জমির সকল সহ অংশীদারগণের উপর নোটিশ জারীর পর জমাভাগ করা হয়েছে তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মূল জমা অক্ষত বা অখন্ড থাকবে এবং কোনো জমির (হোল্ডিং) সহ অংশীদার ঐ জমির সহ অংশীদার হিসাবে বিদ্যমান থাকবেন এবং তার অগ্রক্রয়  মামলা করার অধিকার বলবত্‍ থাকবে। {52DLR 223}

অগ্রক্রয়  মামলা করতে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা দরখাস্তকারী ব্যক্তি যদি ১৯৫০ সালের স্টেট একুই জিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ৯০ ধারা অনুযায়ী জোত জমি দখলে রাখার সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে যা প্রয়োজনীয় যেরূপ কোনো তথ্য উল্লেখ করতে কিংবা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। যেক্ষেত্রে দরখাস্ত কারীর দরখাস্ত খারিজ হয়ে যাবে। {33DLR 318}

দীর্ঘদিন অতিবাহিত পর যদি কোনো ব্যক্তি ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজশন এন্ড টেনসি এক্টের ৯৬(১) ধারা অনুযায়ী তার (প্রি এমটর) অগ্রক্রয়  অধিকার প্রয়োগ করতে চায় তাহলে ঐ ব্যক্তিকে বিতর্কিত জমিটির হস্তান্তরের বিষয়ে দেরীতে অবগত হওয়া বা জানার ব্যাপারটি তাকেই বিশ্বাসযোগ্য স্বাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।  {50DLR-193}

কোনো অগ্রক্রয়  মামলার দরখাস্তকারী যদি সহ অংশীদার হয়ে থাকেন তাহলে তিনি অবশিষ্ট সকল সহ-অংশীদারকে এবং দরখাস্তকারী যদি হস্তান্তরিত জমির সংযুক্ত বা পাশ্ববর্তী জমির মালিক হন তাহলে হস্তান্তরিত জমির সংযুক্ত বা পাশ্ববর্তী জমির মালিক হন তাহলে হস্তান্তরিত জমির পাশ্ববর্তী জমির মালিকগণকে এবং হস্তান্তর গ্রহীতাকে পক্ষ করে প্রি এমশন মামলা দায়ের করতে হবে। {33DLR(AD) 113}

উত্তরাধিকার সূত্রে রেকর্ডকৃত বা অ-রেকর্ডকৃত সকল সহ অংশীদারকে অগ্রক্রয় মামলায় আবশ্যকীয় পক্ষ করতে হবে অন্যথায় ঐ মামলার প্রয়োজনীয় বিষয় ব্যর্থ হয়ে যাবে। {28DLR(AD) 5,  33DLR(AD) 113}

অগ্রক্রয় মামলার জন্য দরখাস্ত কারী ব্যক্তিকে মামলা করার সময় পনের টাকা এবং ক্ষতিপূরণর টাকা জমা না দিলেও মামলা করা যাবে কিন্তু আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সময় সীমার মধ্যে পনের টাকা এবং ক্ষতিপূরণের টাকা দাখিল করতে হবে। {IBLD(HCD) 328. }

সহ অংশীদার তার উপর নোটিশ জারীর পর মূল অগ্রক্রয়  মামলায় যোগ দিতে পারবেন অথবা সময় সীমার মধ্যে স্বতন্ত্রভাবেও মামলা দায়ের করতে পারবেন তবে তাকে যে নন জয়ন্ডার অফ পার্টিজ করা হয়েছে তাকে সেই সুযোগটি প্রথমেই নিতে হবে নইলে ঐ আপত্তি গ্রহণ যোগ্য হবে না। (20DLR 480)

যদি কখনও ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এক্টের ৯৬(১) ধারা অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দরখাস্তটি রক্ষনীয় নয় বলে খারিজ (ডিসমিস) হয়ে যায় তাহলে তার অর্থ এই নয় যে, যারা এই আইনের ৮৯ ধারা মতে নোটিশ জারীর পর মামলায় শরিক হন বা যোগদান করেন তাদের প্রি-এমশনের অধিকার বাতিল হয়ে যাবে। তাদের ও পরিস্কার যে, সহ দরখাস্তকারীগণের ক্ষেত্রে হস্তান্তর বিষয়টি অবগত হওয়ার তারিখ নোটিশ জারীর তারিখ হতে হিসাব করতে হবে। {36DLR 250}

১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ (৫) ধারা অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে অংশীদারদের অগ্রক্রয় মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে তারপর ক্রয়সূত্রে সহ অংশীদারের এবং তারপর পাশ্ববর্তী জমির মালিকের অধিকার আসবে।
যদি কোনো জমির হস্তান্তর হেবা বিল এওয়াজের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং হস্তান্তর গ্রহীতাগণ রক্তের সম্পর্কের  ৩ তিন ডিগ্রীর মধ্যে না হন তাহলে অগ্রকয় বা প্রি এমশনের মামলার দরখাস্ত মঞ্জুর করা যাবে। {49DLR 477}

১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনন্সি এক্টের ৯৬(১০) ধারা অনুযায়ী উইল বা ইচ্ছাপত্র বা দান কিংবা এওয়াজ বদলের মাধ্যমে কোন জমি হস্তান্তরিত হলে সেই হস্তান্তরের অগ্রক্রয় বা প্রি-এমশন মামলা হতে মুক্ত বা বহির্গত বলে গণ্য হবে । {48DLR 170}

কোনো ব্যক্তির পিতা যদি মূল মালিকের নিকট হতে প্রি-এমশনভুক্ত জমিটির মালিক হয়ে থাকেন এবং পিতার মৃত্যুর পর পূত্রগণ/উত্তরাধিকারী গণ ঐ জমির মালিক বলে গণ্য হবেন এবং পূত্রগণ উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মূল মালিকের সহ-অংশীদার বলে গন্য হবেন।  {35DLR(AD) 54}

১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৬ ধারার ১০ উপধারায় উল্লেখিত ব্যতিক্রম অনুযায়ী যদি কোনো জমির হস্তান্তর আর্থিক বিবেচনা ব্যতীত হেবা বিল  এওয়াজ কোন জমির হস্তান্তর আর্থিক বিবেচনা ব্যতীত হেবা বিল এওয়াজের মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয় তাহলে হস্তান্তরিত জমিটির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় বা প্রি-এমশন মামলা করা যাবে না ।যদিও হস্তান্তরটি হস্তান্তর গ্রহীতা ও দাতার মধ্যে রক্ত সম্পর্কীয় ৩ (তিন) ডিগ্রীর মধ্যে না হয়। {50DLR544.}

Advertisements
%d bloggers like this: