Leave a comment

গ্রেফতার সম্পর্কে আইনের বিধান:-

আমলযোগ্য অপরাধ ও অ-আমলযোগ্য অপরাধ বলতে কি বুঝায়?

আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সেই সকল অপরাধকে বুঝায় যে অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়াই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারবেন এবং আসামীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবেন।

ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান মতে, আমলযোগ্য ঘটনার প্রত্যেক টি সংবাদ এজাহার হিসাবে গণ্য হবে এবং সরকারের নির্ধারিত ফরম মোতাবেক বইয়ে নথিভুক্ত হবে।

অ-আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সে সকল অপরাধকে বুঝায়, যে সকল অপরাধ সংঘটন হবার পর, প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন ঘটনার তদন্ত করতে পারেন না এবং বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন না।

ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৫ ধারায় অ- আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার করনীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।

গ্রেফতার,হামলা, মামলা প্রভৃতি শব্দ গুলি  দৈনন্দিন জীবনে যেন স্বাভাবিক ব্যপার ! চলুন আজ সংক্ষেপে জেনে নিই গ্রেফতার সম্পর্কে আইনের বিধানে কি আছ :

√ পুলিশ কোন ব্যাক্তিকে ওয়ারেন্ট বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহে বা অন্য কোন কারনে গ্রেফতার করার অধিকার রাখে।

√ কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুসারে ওয়ারেন্ট এর অধীনে গ্রেফতার এর ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওয়ারেন্ট দেখতে চাইতে পারেন ।

√ বাংলাদেশ সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুসারে,  গ্রেফতারকৃত কোন ব্যাক্তিকে আটকের কারন না জানিয়ে আটক রাখা যাবে না ;  আটক ব্যাক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের বা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এতে আরও বলা আছে যে, গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তিকে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট হাজির করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ ব্যাতিত তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং ১৬৭ ধারায় কোনো ব্যক্তিকে ‘গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেয়ার’ বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা ‘বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের’ নির্দেশ:

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল মহামান্য উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ সরকার’ মামলায় এবং

২০০৩ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস কে সিনহা (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি শরিফউদ্দীন চাকলাদার ‘সাইফুজ্জামান বনাম বাংলাদেশ সরকার’ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং ১৬৭ ধারায় কোনো ব্যক্তিকে ‘গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেয়ার‘ বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা ‘বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। যা আজও যুগান্তকারী ও অত্যাধুনিক নির্দেশনা হিসাবেই আইন পাড়ায় সমাদৃত। তবে দুঃখের বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত মাননীয় বিচারপতিদের সেই রায়টি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানে না এবং আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহামান্য উচ্চ আদালতের সেই যুগান্তকারী রায়টি সঠিকভাবে পালন করছেন না।

রায়টি জনস্বার্থে উল্লেখ করা হলো – এই নির্দেশনাগুলোর আলোকে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলো নিম্নরূপ:

০১। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেবার জন্য পুলিশ কোনো ব্যক্তিকেই ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।

০২। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তাঁর পরিচয় দেবেন এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিসহ উপস্থিত অন্যরাও পরিচয়পত্র দেখাবেন।

০৩। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার দ্রুত গ্রেপ্তারের কারণগুলো (অভিযোগ) লিখে রাখবেন। সেখানে থাকবে- আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য, অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ, যে পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার তথ্য, তথ্যের উৎস ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার কারণ এবং স্থানের বর্ণনা, সময়, গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা থানার ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে।

০৪। গ্রেপ্তার ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পেলে পুলিশ তা লিখে রাখবেন এবং কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে বা সরকারি ডাক্তারকে দেখিয়ে চিকিৎসা করে তার কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন।

০৫। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় আনার তিন (০৩) ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তারের কারণ / অভিযোগপত্র তৈরি করবেন।

০৬। কোনো ব্যক্তিকে বাসস্থান বা কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা না হলে তাকে থানায় আনার এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তার আত্মীয়-স্বজনদেরকে টেলিফোনে বা লোক মারফত গ্রেপ্তারের সংবাদ জানাবেন।

০৭। পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দনীয় আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ বা দেখা করার অনুমতি দিতে বাধ্য থাকবেন।

০৮। যখন কোনো গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করা হয়, তখন পুলিশ কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (১) ধারা অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পেশ করবেন যে, কেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং কেন তিনি মনে করেন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্যগুলো যুক্তিসংগত ও সুদৃঢ় । একইসঙ্গে তিনি মামলার প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করবেন।

০৯। যদি ম্যাজিস্ট্র্টে তদন্তকারী কর্মকর্তার পাঠানো পত্রে ও মামলার লিখিত ডায়েরির বর্ণনা পড়ে সন্তুষ্ট হন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্যগুলো যুক্তিসঙ্গত এবং তাকে জেলে রাখার যথেষ্ঠ উপকরণ মামলার ডায়েরিতে রয়েছে, তবে তিনি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেবেন। অন্যথায় তাৎক্ষণিক তাকে মুক্তি দেবেন।

১০। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যুক্তিসঙ্গত না হওয়ায় এবং তাকে জেলে রাখার যথেষ্ট উপকরণ মামলার ডায়েরিতে না থাকায় যদি ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেন তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ (১)(গ) ধারায় ওই ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু করবেন । একইসঙ্গে ওয়ারেন্ট ছাড়া ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কারণে ওই পুলিশ অফিসার দ-বিধির ২২০ ধারা অনুযায়ী বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে বা উৎকোচ নিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

১১। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় জেলহাজতে পাঠানোর পরও সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তদন্তের প্রয়োজনে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি নিম্নলিখিত শর্তানুযায়ী হতে হবে । শর্তগুলো হলো- জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষটির এক পাশে কাঁচের দেয়াল ও গ্রিল থাকবে, যাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন বা আইনজীবী জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্যটি দেখতে পারেন কিন্তু শুনতে পাবেন না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেবার আবেদনপত্রে জিজ্ঞাসাবাদের বিস্তারিত যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করতে হবে। বিবেচনার জন্য মামলার কেস ডায়েরিটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করতে হবে । যদি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি কারণগুলো লিখে নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেবেন। তবে সেটা তিন দিনের বেশি অবশ্যই নয়।

১২। যদি ম্যাজিস্ট্র্টে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেবার জন্য পুনরায় আদেশ দেন তবে এই মর্মে নিশ্চিত হবেন যে- গ্রেপ্তারের সময় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়েছিল, পছন্দনীয় আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট আটক ব্যক্তির আইনজীবীর বক্তব্যও শুনবেন। ওই ম্যাজিস্ট্রেট আটক ব্যক্তিকে পুনরায় পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর এই আদেশ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার দায়রা জজ/মেট্রোপলিটন দায়রা জজের কাছে পাঠাবেন। অনুমোদন পাওয়ার গেলে হেফাজতে নেয়ার আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই নির্দিষ্ট সরকারি ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ড দ্বারা আটক ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন এবং ডাক্তারি প্রতিবেদন ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করবেন। যদি ম্যাজিস্ট্রেট ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে পুলিশ হেফাজতে আটক ব্যক্তিকে নির্যাতনের বা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পান তবে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯০ (১) (গ) ধারায় ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু করবেন। একইসঙ্গে ওই পুলিশ অফিসার দ-বিধির ৩৩০ ধারা অনুযায়ী, ভিত্তিহীন/ অযৌক্তিক অপরাধে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন/পীড়ন করার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদ-। একই সঙ্গে অর্থদ-ও হতে পারে।

১৩। যদি থানা পুলিশ হেফাজত/জেলখানায় আটক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে তবে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা/তদন্তকারী কর্মকর্তা/তদন্তকারী অফিসার/ জেলার এই মৃত্যুর খবর তৎক্ষণিক কাছের ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন।

১৪। পুলিশ হেফাজতে বা জেলে মৃত্যুর সংবাদ পাবার পর অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেট অতিদ্রুত ঘটনাস্থলে যাবেন এবং কোন ধরনের অস্ত্রে বা কিভাবে শরীরে ক্ষত হয়েছে তা উল্লেখ করে মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন। একইসঙ্গে মৃত ব্যক্তির ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করবেন।

১৫। উপর্যুক্ত নির্দেশনাগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে মেনে না চললে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবমাননার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।

In India:-

The Hon’ble Supreme Court in “D.K. Basu v. State of West Bengal laid down the following guideline:


(D.K Basu vs. State of West Bengal (1997) 1SCC, 416)

1 The police personnel carrying out the arrest and handling the interrogation of the arrestee should bear accurate, visible and clear identification and name tags with their designations. The particulars of all such police personnel who handle interrogation of the arrestee must be recorded in a register.

2 That the police officer carrying out the arrest of the arrestee shall prepare a memo of arrest at the time of arrest and such memo shall be attested by at least one witness, who may be either a member of the family of the arrestee or a respectable person of the locality from where the arrest is made. It shall also be counter signed by the arrestee and shall contain the time and date of arrest.

3 A person who has been arrested or detained and is being held in custody in a police station or interrogation centre or other lock-up, shall be entitled to have one friend or relative or other person known to him or having interest in his welfare being informed, as soon as practicable, that he has been arrested and is being detained at the particular place, unless the attesting witness of the memo of arrest is himself such a friend or a relative of the arrestee.

4 The time, place of arrest and venue of custody of an arrestee must be notified by the police where the next friend or relative of the arrestee lives outside the district or town through the Legal Aid Organization in the District and the police station of the area concerned telegraphically within a period of 8 to 12 hours after the arrest.

5 The person arrested must be made aware of this right to have someone informed of his arrest or detention as soon as he is put under arrest or is detained.

6 An entry must be made in the diary at the place of detention regarding the arrest of the person which shall also disclose the name of the next friend of the person who has been informed of the arrest and the names and particulars of the police officials in whose custody the arrestee is.

7 The arrestee should, where he so requests, be also examined at the time of his arrest and major and minor injuries, if any present on his/ her body, must be recorded at that time. The “Inspection Memo” must be signed both by the arrestee and the police officer affecting the arrest and a copy provided to the arrestee.

8 The arrestee should be subjected to medical examination every 48 hours during his detention in custody by a trained doctor on the panel of approved doctors appointed by the Director of Health Services of the concerned State or Union Territory. The Director of Health Services should prepare such a panel for all Tehsils and Districts, as well.

9 Copies of all the documents including the memo of arrest, referred to above, should be sent to the Illaqa Magistrate for his record.

10 The arrestee may be permitted to meet his lawyer during interrogation, though not throughout the interrogation.

11 A police control room should be provided at all District and State Headquarters, where information regarding the arrest and the place of custody of the arrestee shall be communicated by the officer causing the arrest, within 12 hours of effecting the arrest and at the police control room it should be displayed on a conspicuous notice board. The accused has the right to be treated decently while he is in custody. He must be provided with food and drink, clothing as necessary as well as sleeping and washing facilities. The accused cannot be “punished” or treated as guilty while he awaits trial. While detained, the accused retains the right to court access and to a legal aid lawyer. That access may be subject to security restrictions typically used in a detention facility.

প্রত্যেক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারীভাবে আটক ও গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ইহা সর্বজনবিদিত যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকলে একজন ব্যক্তির অন্য সকল অধিকার ক্রমবর্ধমানহারে অরক্ষিত এবং প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণা পত্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কনভেনশন এবং রাষ্ট্রীয় সংবিধান ও প্রচলিত আইনে বিভিন্নভাবে একজন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে আটক ও গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটক করতে সুনির্দিষ্ট যুক্তিসংগত কারণ বিদ্যমান থাকতে হয়।

জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণা পত্রের ৯ ধারা অনুযায়ী কাউকে খেয়াল খুশি মত গ্রেফতার বা নির্যাতন করা যায় না।

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ৯(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে খেয়াল খুশি মত আটক অথবা গ্রেফতার করা যায় না। এমন কি আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট কারণ ও আইনানুগ পদ্ধতি ব্যতীত কাউকে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

তাছাড়া, ৯(২) ধারা অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের সময় কারণ জ্ঞাপন করতে হয় এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে তাকে অবিলম্বে অভিত করতে হয়।

আবার, ৯(৩) ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধের দায়ে গ্রেফতারকৃত অথবা আটক ব্যক্তিকে অবিলম্বে কোন বিচারক কিংবা আইনের দ্বারা বিচার ক্ষমতা প্রয়োগের কর্তৃত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তার সম্মুখে হাজির করতে হয় এবং অনুরূপ ব্যক্তি যুক্তি সংগত সময়ের মধ্যে বিচার অথবা মুক্তি পাওয়ার অধিকারী।

উক্ত কনভেনশনের ৯(৪) ধারা অনুযায়ী গ্রেফতার অথবা আটকের ফলে কেউ স্বাধীনতা বঞ্চিত হতে আদালতে কার্য-ধারা গ্রহনের অধিকার তার থাকবে, যাতে অবিলম্বে তার আটকের বৈধতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিতে পারে এবং উক্ত আটক আইন বিরুদ্ধ হলে তার মুক্তির আদেশ দিতে পারে।

সর্বোপরি, ৯(৫) ধারা অনুযায়ী, কেউ অবৈধভাবে গ্রেফতার অথবা আটকের শিকার হলে ক্ষতিপূরণ লাভের বলবৎযোগ্য অধিকার তার থাকবে বলে ঘোষনা করা হয়েছে।

কম্বোডিয়া:

কম্বোডিয়া সিসিপি’র ৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি সরকারী আইনজীবী (প্রসিকিউটের) লিখিত অনুমতি প্রদান করেন অথবা যদি কোন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করে অথবা যদি কোন ব্যক্তি অপরাধ সংগঠনে যুক্ত মর্মে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান থাকে তবে একজন বিচারিক পুলিশ অফিসার তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।

চীন:

চীন সিপিএল এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী জন নিরাপত্তা সংস্থা পিপল’স প্রকিউরেটোরেট এর অবশ্য অনুমোদন সাপেক্ষে অথবা পিপল’স কোর্ট এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপরাধে অভিযুক্ত অথবা সন্দেহযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন।তাছাড়া, চীন সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পিপল’স  প্রকিউরেটর এর অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত অথবা পিপল’স কোর্ট এর সিদ্ধান্ত ব্যতীত কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা যাবে না এবং গ্রেফতার অবশ্য জন নিরাপত্তা সংস্থা কর্তৃক কার্যকর হবে।

ভারত:

ভারতীয় ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১ ধারা অনুযায়ী পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগত সম্ভাব্য কারনের ভিত্তিতে আম্ল আযোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে গ্রেফতারের সময় উক্ত ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে বা করছে বলে পর্যাপ্ত  তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান থাকে হবে।

রুয়ান্ডা:

রুয়ান্ডা ফৌজদারী কার্যবিধি কোডের ৩৭ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে যার শাস্তির মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড মর্মে গুরুত্বর সন্দেহ বিদ্যমান থাকে অথবা যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি পলায়ন করতে পারে বলে যুক্তিসংগত সন্দেহ বিদ্যমান থাকে অথবা যদি তার পরিচয় অজানা বা সন্দেহজনক মনে হয়, তবে একজন বিচারিক পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে তার অফিসিয়াল সক্ষমতায় তাকে গ্রেফতার বা আটক করে থানা হেফাজতে আবদ্ধ রাখতে পারেন।

তানজানিয়া:

তানজানিয়া ফৌজদারী আইন, ১৯৮৫ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী একজন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে-

(এ) যদি কোন ব্যক্তি তার উপস্থিতিতে শান্তি ভঙ্গ করে;

(বি) যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ কর্মকর্তার আইনগত কার্যসম্পাদনে বাঁধা প্রদান করেন এবং আইনগত হেফাজত থেকে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে; এবং

(সি)  যদি কোন ব্যক্তির নিকট যুক্তিসংগত সন্দেহযুক্ত চুরির দ্রব্যাদি পাওয়া যায়।

জিম্বাবুয়ে:

জিম্বাবুয়ে সংবিধানের ১৩(২)(ই) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্রেফতার করা যাবে না, গ্রেফতার করতে হলে উক্ত ব্যক্তি কোন ফৌজদারি অপরাধ করেছে মর্মে যুক্তিসংগত সন্দেহ বিদ্যমান থাকতে হবে।

তাছাড়া, জিম্বাবুয়ে সিপিইএ’র অধ্যায় ৫, বিভাগ এ, ধারা এ-সি অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি একজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কোন অপরাধ করতে থাকে, কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে মর্মে একজন পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ করে, কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠনের চেষ্ঠা করে অথবা তা সংগঠন করতে স্পষ্টভাবে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তবে একজন পুলিশ অফিসার তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।

সর্বোপরি, জিম্বাবুয়ে সংবিধানের ১৩(২)(ই) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে এবং কোন প্রকার বিলম্ব ব্যতীত তার পছন্দ মত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করার অনুমতি প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ:

বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না, যাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম, বা সম্পত্তির হানি ঘটে।

আবার ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যায় না।

সর্বোপরি, সংবিধানের ৩৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যায় না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার মনোনীত মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের ও তার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যায় না।

তাছাড়া, সংবিধানের ৩৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাকে তদতিরিক্ত কাল প্রহরায় আটক রাখা যায় না।

বাংলাদেশে প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী নিম্নোক্ত নয়টি ক্ষেত্রে ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ অথবা বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায় পুলিশ যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে।

(১)কোন আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত অথবা জড়িত বলে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ রয়েছে;

(২)আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত ঘর ভাংগার সরঞ্জাম রয়েছে;

(৩)আইনানুযায়ী যাকে অপরাধী বলে ঘোষনা করা হয়েছে;

(৪)চোড়াই মাল রয়েছে বা চুরি কার্য সংঘটিত করেছে বলে সন্দেহ হয়;

(৫)পুলিশের কাজে বাঁধা দানকারী বা পুলিশের হেফাজত থেকে পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টাকারী;

(৬) প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে পলায়নকারী;

(৭) দেশের বাইরে এমন কোন অপরাধ সংগঠন করী যা বাংলাদেশে সংগঠন করলে অপরাধ বলে গন্য হত;

(৮)কোন মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী মুক্তির শর্ত বা প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী; এবং

(৯)আইনসঙ্গত ভাবে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের কারণ রয়েছে এমন কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অন্য কোন পুলিশ অফিসারের নিকট থেকে প্রাপ্ত অনুরোধক্রমে কোন ব্যক্তিকে বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে।

তবে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সন্দেহ সুনির্দিষ্ট, যুক্তিসংগত, দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়। খামখেয়ালী ভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে, করছে অথবা করতে যাচ্ছে এরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত সম্ভাব্য কারণ বিদ্যমান থাকলেই শুধুমাত্র পুলিশ অফিসার একজন ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারে। যুক্তিসংগত বিশ্বাসযোগ্য কারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সাথে বিবেচনা করতে হয়। পুলিশ অফিসারের স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে চলবে না।

Posted from
Shoaib Rahman
LL.M. Advocate

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: