Leave a comment

‘গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেয়ার’ সম্পর্কে উচ্চ আদালতের বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও নিদের্শনা(Bangla with English version)

রিট পিটিশন নম্বর ৩৮০৬/১৯৯৮-এর মাধ্যমে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল মহামান্য উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ সরকার’মামলায় এবং

২০০৩ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস কে সিনহা (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি শরিফউদ্দীন চাকলাদার‘ সাইফুজ্জামান বনাম বাংলাদেশ সরকার’ মামলায়

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং ১৬৭ ধারায় কোনো ব্যক্তিকে‘গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেয়ার’ বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা‘ বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের’নির্দেশ দিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে এবং নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২০০৪ সালে সিভিল আপিল নম্বর ৫৩/২০০৪-এর মাধ্যমে আপিল করা হয়। কিন্তু আপিল বিভাগ নির্দেশনাগুলো স্থগিতাদেশের আবেদন নাকচ করে দেয়। সুতরাং হাইকোর্টের এই নির্দেশনা মান্য করা সবার জন্যই বাধ্যতামূলক।

পুলিশি রিমান্ডে নেয়ার’ একটা গ্রহণযোগ্য গাইডলাইন ৫৫ ডিএলআর (২০০৩) ৩৬৫ পৃঃ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিম্ন আদালত সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে বাধ্য।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নিম্ন আদালত কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানছেন না। সংবিধান অনুযায়ী নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের থাকলেও রিমান্ডের বিষয়ে উচ্চ আদালতের প্রয়োজনীয় তদারকি নেই।

৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও পুলিশের রিমান্ড-সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার রায়টি প্রায় এক যুগ ধরে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।এই সুযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায়,হয়রানি মুলক বা মিথ্যা মামলায় পুলিশ যাদের গ্রেফতার করছে, তাদেরকে নিম্ন আদালতে সোপর্দ করে যুক্তিহীন ও অসংখ্য দিনের জন্য রিমান্ড চাচ্ছে। অর্ধশত দিনের জন্য রিমান্ড চাওয়ার নজিরও সৃষ্টি করা হয়েছে।নিম্ন আদালত রিমান্ডের যৌক্তিকতা কিংবা এতদসংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় রিমান্ড মঞ্জুর করছে। মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য রিমান্ডের কথা বলা হলেও রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসামিকে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে।

মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে প্রথম দফা জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

কিন্তু নিম্ন আদালত জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে রিমান্ডে দিচ্ছেন।

কোনো মামলায় তিন দিনের বেশি রিমান্ড না দেয়ার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও তিন দিনের অনেক বেশি রিমান্ড দেয়া হচ্ছে। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাধ্যবাধকতামূলক কার্যকারিতার নির্দেশনা রয়েছে।এতে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে, ‘আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রিম কোর্টের যেকোনো বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন অধস্তন সকল আদালতের জন্য অবশ্যই পালনীয় হইবে।’

আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহামান্য উচ্চ আদালতের সেই যুগান্তকারী রায়টি সঠিকভাবে পালন করছেন না। রায়টি জনস্বার্থে উল্লেখ করা হলো –

এই নির্দেশনাগুলোর আলোকে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলো নিম্মরূপ:

০১। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেবার জন্য পুলিশ কোনো ব্যক্তিকেই ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।

০২। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তাঁর পরিচয় দেবেন এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিসহ উপস্থিত অন্যরাও পরিচয়পত্র দেখাবেন।

০৩। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার দ্রুত গ্রেপ্তারের কারণগুলো (অভিযোগ) লিখে রাখবেন। সেখানে থাকবে-

-আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য,

-অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ,

-যে পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার তথ্য,

-তথ্যের উৎস ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতারকারণ এবং স্থানের বর্ণনা,

-সময়,গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা থানার ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে।

০৪। গ্রেপ্তার ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পেলে পুলিশ তা লিখে রাখবেন এবং কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে বা সরকারি ডাক্তারকে দেখিয়ে চিকিৎসা করে তার কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন।

০৫। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় আনার তিন(০৩) ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তারের কারণ/অভিযোগপত্র তৈরি করবেন।

০৬। কোনো ব্যক্তিকে বাসস্থান বা কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা না হলে তাকে থানায় আনার এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তার আত্মীয়-স্বজনদেরকে টেলিফোনে বা লোক মারফত গ্রেপ্তারের সংবাদ জানাবেন।

০৭। পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দনীয় আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ বা দেখা করার অনুমতি দিতে বাধ্য থাকবেন।

০৮। যখন কোনো গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করা হয়,তখন পুলিশ কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (১) ধারা অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পেশ করবেন যে,কেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং কেন তিনি মনে করেন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্যগুলো যুক্তিসংগত ও সুদৃঢ়,একইসঙ্গে তিনি মামলার প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করবেন।

০৯। যদি ম্যাজিস্ট্র্টে তদন্তকারী কর্মকর্তার পাঠানো পত্রে ও মামলার লিখিত ডায়েরির বর্ণনা পড়ে সন্তুষ্ট হন যে,গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্যগুলো যুক্তিসঙ্গত এবং তাকে জেলে রাখার যথেষ্ঠ উপকরণ মামলার ডায়েরিতে রয়েছে,তবে তিনি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেবেন।অন্যথায় তাৎক্ষণিকতাকে মুক্তি দেবেন।

১০। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যুক্তিসঙ্গত না হওয়ায় এবং তাকে জেলে রাখার যথেষ্ট উপকরণ মামলার ডায়েরিতে না থাকায় যদি ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেন তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ (১)(গ)ধারায় ওই ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু করবেন।একইসঙ্গে ওয়ারেন্ট ছাড়া ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কারণে ওই পুলিশ অফিসার দন্ডবিধির ২২০ধারা অনুযায়ী বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে বা উৎকোচ নিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

১১। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় জেলহাজতে পাঠানোর পর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তদন্তের প্রয়োজনে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।

১২ | তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি নিম্মরূপ লিখিত শর্তানুযায়ী হতে হবে।শর্তগুলো হলো-

-জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষটির এক পাশে কাঁচের দেয়াল ও গ্রিল থাকবে,

-যাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন বা আইনজীবী জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্যটি দেখতে পারেন কিন্তু শুনতে পাবেন না।

-গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেবার আবেদনপত্রে জিজ্ঞাসাবাদের বিস্তারিত যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করতে হবে।

-বিবেচনার জন্য মামলার কেস ডায়েরিটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করতে হবে।

-যদি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি কারণগুলো লিখে নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেবেন। তবে সেটা তিন দিনের বেশি অবশ্যই নয়।

১৩। যদি ম্যাজিস্ট্র্টে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেবার জন্য পুনরায় আদেশ দেন তবে এই মর্মে নিশ্চিত হবেন যে-

গ্রেপ্তারের সময় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়েছিল,

পছন্দনীয় আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দেয়া হয়েছিল,

পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট আটক ব্যক্তির আইনজীবীর বক্তব্যও শুনবেন।

ওই ম্যাজিস্ট্রেট আটক ব্যক্তিকে পুনরায় পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর এই আদেশ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার দায়রা জজ/মেট্রোপলিটন দায়রা জজের কাছে পাঠাবেন।অনুমোদন পাওয়ার গেলে হেফাজতে নেয়ার আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই নির্দিষ্ট সরকারি ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ড দ্বারা আটক ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন এবং ডাক্তারি প্রতিবেদন ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করবেন।

যদি ম্যাজিস্ট্রেট ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে পুলিশ হেফাজতে আটক ব্যক্তিকে নির্যাতনের বা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পান তবে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯০ (১) (গ) ধারায় ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু করবেন। একইসঙ্গে ওই পুলিশ অফিসার দন্ডবিধির ৩৩০ ধারা অনুযায়ী, ভিত্তিহীন/অযৌক্তিক অপরাধে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন/পীড়ন করার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরপর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড। একই সঙ্গে অর্থদন্ডওহতে পারে।

১৪। যদি থানা পুলিশ হেফাজত/জেলখানায় আটক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে তবে সংশ্লিষ্টথানার কর্মকর্তা/তদন্তকারী কর্মকর্তা/তদন্তকারী অফিসার/ জেলার এই মৃত্যুর খবর তৎক্ষণিক কাছের ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন।

১৫। পুলিশ হেফাজতে বা জেলে মৃত্যুর সংবাদ পাবার পর অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেট অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাবেন এবং কোন ধরনের অস্ত্রে বা কিভাবে শরীরে ক্ষত হয়েছে তা উল্লেখ করে মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করবেন।

১৬। উপর্যুক্ত নির্দেশনাগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে মেনে না চললে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবমাননার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে,পুলিশ রিমান্ড দেয়া ও রিমান্ডে নেয়ার প্রক্রিয়া, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনজীবীর উপস্থিতি,জেল গেটে জিজ্ঞাসার তাগিদের কোনো মূল্য মানছেন না,কোনো কিছুই আমলে নিচ্ছে না।পুলিশ এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উচ্চ আদালতের সব নির্দেশনাগুলো উপেক্ষাকেই রেওয়াজে পরিণত করা হয়েছে।

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

English Version:-

Judicial Guidelines on Prevention of Arbitrary Arrest, Detention and Torture-

Over the last years, the High Court Division delivered several judgements where the Government has been directed to amend legislation facilitating torture and follow guidelines in dealing with arrested persons to restrain police power.

The judgements in BLAST vs Bangladesh and Saifuzzaman vs. State- are the most important judicial pronouncements,which provide some important recommendations for amendments of relevant laws, and contain directions to reduce the scope and possibility of the abuse of police power.

Although the guidelines and recommendations are not binding on the government, they indicate the potential areas for making necessary legal reform to address arbitrary use of arrest and detention.

The directions given in BLAST vs Bangladesh broadly cover three important aspects of criminal proceedings:

Arrest without warrant-

-No police officer shall arrest a person under Section 54 of the Cr. P.C. for the purpose of detaining him under Section 3 of the Special Powers Act, 1974.

– A Police officer shall disclose his identity and if demanded, shall show his identity card to the person arrested and to the persons present at the time of arrest.

-He shall record the reasons for the arrest and other particulars in a separate register till a special diary is prescribed. – –

– A police officer shall furnish reasons of arrest to the detained person within three hours of bringing him to the police station.

-An arrested person should be allowed to consult a lawyer of his choice or meet his relatives. If a police officer finds any marks of injury on the person arrested, he shall record the reasons for such injury and shall take the person to the nearest hospital or Government doctor for treatment and shall obtain a certificate from the attending doctor.

-If the person is not arrested from his residence or place of business he shall inform a relation of the person over the phone, or through a messenger, within one hour of bringing him to the police station.

Guidelines on Accountability of Police Officers-

When a detained person is produced before the nearest Magistrate under section 61, the police officer shall state in his forwarding letter under section 167 (1) of the Code as to why the investigation could not be completed within twenty four hours and why he considers that the accusation or the information against that person is well-founded.

– If the Magistrate releases a person on the grounds that the accusation or the information against the person produced before him is not well-founded and there are no materials in the case diary against that person, he shall proceed under section 190(1)(c) of the Code against that police officer who arrested the person without warrant for committing offence under section 220 of the Penal Code.

Guidelines on Remand If the Magistrate is satisfied on consideration of the reasons stated in the forwarding letter as to whether the accusation or the information is well-founded and that there are materials in the case diary for detaining the person in custody, the Magistrate shall pass an order for further detention in jail. Otherwise, he shall release the person forthwith.

-If the Magistrate passes an order for further detention in jail, the Investigating officer shall interrogate the accused, if necessary for the purpose of investigation, in a room in the jail till the room as mentioned in recommendation B(2)(b) is constructed. In the application for taking the accused into police custody for interrogation, the investigating officer shall state reasons as mentioned in recommendation B(2)(c).

– If the Magistrate authorizes detention in police custody he shall follow the recommendation contained in recommendation B(2)(c)(d) and B(3)(b)(c)(d). The police officer of the police station who arrests a person under Section 54 or the Investigating officer who takes a person in police custody or the jailor of the jail as the case may be, shall at once inform the nearest Magistrate as recommended in recommendation B(3)(e) of the death of any person who dies in custody. A Magistrate shall inquire into the death of a person in police custody or in jail immediately after receiving information of such death. The court directed the Government to implement the recommendations made above within six months from the date of the judgment.

This judgment made detailed recommendations for the necessary amendments to the relevant sections of the Code of Criminal Procedure, 1898, the Penal Code, 1860 and the Evidence Act, 1908 to ensure that the directions, guidelines and safeguards enunciated in the judgment are strictly followed as a matter of law. The judgment made a total of seven sets of recommendations

In Saifuzzaman V State , the High Court Division took notice of the severe violation of the fundamental rights of the citizens by police, and failure of the Magistrate in acting in accordance with the law.

SK Sinha J. observed that: “There are complaints about violation of human rights because of indiscriminate arrest of innocent persons by law enforcing agencies in exercise of power under section 54 of the Code and put them in preventive detention on their prayer by the authority and sometimes they are remanded to custody of the police under order of the Magistrate under section 167 of the Code and they are subjected to third degree methods with a view to extract confession. This is what is termed by the Supreme Court of India as ‘state terrorism’ which is no answer to combat terrorism.”

The Division Bench in this case issued eleven guidelines to the police and magistrates as to arrest, detention and remand of suspects. However, these guidelines are not binding on the relevant authorities.

Guidelines on Arrest-

The police officer making the arrest of any person shall prepare a memorandum of arrest immediately after the arrest and such officer shall obtain the signature of the arrestee with the date and time of arrest in the said memorandum.

-The police officer who arrested the person must intimate to a nearest relative of the arrestee and in the absence of the relative, to a friend to be suggested by the arrestee, as soon as practicable but not later than 6(six) hours of such arrest notifying the time and place of arrest and the place of custody.

-An entry must be made in the diary as to the grounds of arrest and name of the person who informed the police to arrest the person or made the complaint along with his address and shall also disclose the names and particulars of the relative or the friend, as the case may be, to whom information is given about the arrest and the particulars of the police officer in whose custody the arrestee is staying.

-Copies of all the documents including the memorandum of arrest, a copy of the information or complaint relating to the commission of cognizable offence and a copy of the entries in the diary should be sent to the Magistrate at the time of production of the arrestee for making the order of the Magistrate under section 167 of the Code.

-The Magistrate shall not make an order of detention of a person in judicial custody if the police forwarding the report disclose that the arrest has been made for the purpose of putting the arrestee in preventive detention

Guidelines on Remand-

If the arrested person is taken on police remand, he must be produced before the Magistrate after the expiry of the period of such remand and in no case shall he be sent to the judicial custody after the period of such remand without producing him before the Magistrate.

-Registration of a case against the arrested person is sine-qua-non for seeking the detention of the arrestee either to the police custody or in the judicial custody under section 167(2) of the Code.

-If a person is produced before a Magistrate with a prayer for his detention in any custody, without producing a copy of the entries in the diary as per item No (iv) above, the Magistrate shall release him in accordance with section 169 of the Code on taking a bond from him.

-If a police officer seeks an arrested person to be shown arrested in a particular case who is already in custody, the Magistrate shall not allow such a prayer unless the accused/arrestee is produced before him with a copy of the entries in the diary relating to such case.

-If the investigation of the case cannot be concluded within 15 days of the detention of the accused under section 167(2), the Magistrate having jurisdiction to take cognisance of the case or with the prior permission of the Judge or Tribunal having such power can send such accused person on remand under section 344 of the Code for a term not exceeding 15 days at a time.

– It shall be the duty of the Magistrate, before whom the accused person is produced, to satisfy that these requirements have been complied with before making any order relating to such accused under section 167 of the Code. The court ordered that these guidelines should be forwarded to the Secretary, Ministry of Home Affairs, Chief Metropolitan Magistrates and District Magistrates and ordered that every police station should comply within 3 months from that date.

The Registrar, Supreme Court of Bangladesh, was directed to circulate the requirements as per direction made above. The court also directed that if the concerned police officers and the Magistrates fail to comply with the above requirements, within the prescribed time, they will be rendered liable to be punished for contempt of Court, if any application is made by the aggrieved person in the Court. In this case, the High Court Division Bench also suggested amendments of the relevant sections, but unlike the BLAST case, it refrained from formulating its own amendments of the relevant provisions of law.

The court clearly recognised that it could not direct the Legislature to amend the relevant laws without declaring the existing laws unconstitutional.

According to Dr.Shahdeen Malik, “These judgements, it needs to be emphasised, directed major changes in the way the police act.

The police power of arrest and remand had never been scrutinised before and neither had the constitutional safeguards regarding arrest and detention of
the Constitution been brought to bear upon these powers of police.

In such a long-standing practice of unfettered power, these two judgements laid down very exacting details regarding what police can and must do in effecting arrest and asking for remand.”

Reference-

# See for detailed discussion on the judgement of BLAST vs. Bangladesh, ‘Seeking Effective Remedies: Prevention of Arbitrary Arrests and Freedom from Torture and Custodial Violence’, A Publication of Bangladesh Legal Aid Services Trust, Dhaka, 2005.

# 55 DLR (HC) 363

# 56 DLR 324.

# Shahdeen Malik, ‘Arrest and Remand: Judicial Interpretation and Police Practice’, Special Issue, Bangladesh Journal of Law, 2007, p. 289.

লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।

Posted from
Shoaib Rahman
LL.M. Advocate

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: