Leave a comment

জেনে নিন মোটরযান রেজিস্ট্রেশনের জন্য /ক্রয় এবং বিক্রয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি :-

10491228_821715111180250_7180787489447064915_nসেবাগ্রহনকারী সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। অতঃপর বিআরটিএ অফিস কর্তৃক তার আবেদন যাচাই-বাছাই করে সঠিক পাওয়া গেলে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন ফি জমা প্রদান করতে একটি এ্যাসেসমেন্ট স্লিপ প্রদান করা হবে এবং ফি জমা প্রদানের পর গাড়িটি বিআরটিএ অফিসে হাজির করতে হবে। গাড়িটি পরিদর্শন করার পর ডাটা এন্ট্রি করে মোটরযান পরিদর্শকের অনুমোদনের পর সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিঃ) কর্তৃক রেজিস্টেশনের অনুমোদন প্রদান করা হয় এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন প্রিন্ট করে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর করতঃ তা গ্রাহককে প্রদান করা হয়।

গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) প্রদানের জন্য গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট অফিসে উপস্হিত হতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১। আবেদনপত্র (‘এইচ’-ফরম) মালিক ও আমদানীকারক/ডিলার কর্তৃক সত্যায়িত যথাযথ পূরণ ও স্বাক্ষরকৃত

২। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে উভয়ের স্বাক্ষর এবং কোম্পানীর ক্ষেত্রে কোম্পানীর লেটার হেড প্যাডে স্বাক্ষর ও সীলমোহর

৩। ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে হায়ার পারচেজ এগ্রিমেন্টের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানের যথাযথ ডকুমেন্ট

৪। আমদানী সংক্রান্ত ইনভয়েজের মুল কপি

৫। বিল অব লেডিং এর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক সত্যায়িত কপি

৬। ইমপোর্ট অনুমতি/এলসিএ কপি (ব্যাংক কর্তৃক সত্যায়িত)

৭। সেলস সাটিফিকেট

৮। সেল ইন্টিমেশন

৯। ডেলিভারী চালান

১০। প্যাকিং লিস্ট

১১। বিদেশী নাগরিকের নামে রেজিস্ট্রেশন/মালিকানা বদলী হলে বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসার কপি

১২। মুসক-11(ক)/ATV/ ভ্যাট পরিশোধের চালান (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

১৩। বডি ও আসন ব্যবস্থার স্পেসিফিকেশন প্রদর্শণকৃত ড্রয়িং (বাস, ট্রাক, হিউম্যান হলার, ডেলিভারী ভ্যান, অটোটেম্পু ইত্যাদি মোটরযানের ক্ষেত্রে)

১৪। সিকেডি(CKD) মোটরযানের ক্ষেত্রে বিআরটিএ টাইপ অনুমোদন ও অনুমোদিত সংযোজনী তালিকা

১৫। TIN সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

১৬। বডি ভ্যাট চালান মূসক-11 ও পরিশোধ রশিদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

১৭। ব্যক্তি মালিকানাধীন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট/টেলিফোন বিল/বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদির সত্যায়িত ফটোকপি এবং মালিক প্রতিষ্ঠান হলে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে চিঠি

১৮। প্রয়োজনীয় ফি প্রদানের রশিদ

১৯। মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক গাড়িটির পরিদর্শন প্রতিবেদন

রি-কন্ডিশন্ড মোটরযানের ক্ষেত্রে:- উপরোক্ত কাগজপত্র ছাড়াও নিম্নলিখিত কাগজ দাখিল করতে হবে:

১। ফরম ‘টিও’ (ক্রেতা কর্তৃক স্বাক্ষরিত), ‘টিটিও’ ও বিক্রি রসিদ (আমদানীকারকের স্বাক্ষরসহ)

২। (ক) ডি-রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের মূল কপি (ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও রুটপারমিটসহ) (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
(খ) ডি-রেজিস্ট্রেশনের ইংরেজী অনুবাদের সত্যায়িত কপি (সার্টিফিকেট অব ক্যানসিলেশন এর সত্যায়িত কপি)।

মালিকানা বদলীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

ক্রেতার করণীয়:
১। ফরম ‘টিও’ (ক্রেতা কর্তৃক স্বাক্ষরিত), ‘টিটিও’ -তে নমুনা স্বাক্ষর

২। প্রয়োজনীয় ফি প্রদানের রশিদ

৩। ক্রেতার TIN সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি (ভাড়ায় চালীত নহে এমন কার, জিপ, মাইক্রোবাস-এর ক্ষেত্রে)

৪। মূল রেজিস্ট্রেশন সনদ/ ব্লুবুক (উভয় কপি)

৫। ছবিসহ ক্রয় সংক্রান্ত হলফনামা

৬। সংশ্লিষ্ট নমুনা স্বাক্ষর ফর্মে ত্রেতার নমুনা স্বাক্ষর এবং ইংরেজীতে নাম, পিতার/স্বামীর নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও ৩ কপি স্ট্যাম্প আকারের রঙ্গীন ফটোসহ ফরমের অন্যান্য সকল তথ্যাদি প্রদান (কম্পিউটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে), তবে ক্রেতা কোন প্রতিষ্ঠান হলে, উপরে বর্ণিত কাগজপত্রসহ (হলফনামা ব্যতিত) অফিসিয়াল প্যাডে চিঠি

বিক্রেতার করণীয়ঃ
১। ফরম ‘টিটিও’ এবং বিক্রয় রশিদে স্বাক্ষর (স্বাক্ষীল স্বাক্ষর ও রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ)

২। বিক্রেতার ছবিসহ বিক্রয় হলফনামা

৩। বিক্রেতা কোম্পানী হলে কোম্পানীর লেটার হেড প্যাডে ইন্টিমেশন, বোর্ড রেজিুলেশন ও অথরাইজেশন পত্র প্রদান

৪। মোটরযানটি ব্যাংক অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ থাকলে দায়বদ্ধকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত ছাড়পত্র সংগ্রহ করে তা দাখিল করা

অকশনে কেনা মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন করার পদ্ধতিঃ
(যে কোন অকশন(থানা, কাস্টমস))

১। পেপার কাটিং (Paper Cutting)
২। সি.এস. কপি/ তুলনামূলক বিবরণী (C.S. Copy
৩। সর্বোচ্চ দরপত্র গ্রহণ
৪। বিক্রয় আদেশ
৫। বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক সিসি নির্ধারণ
৬। টাকা জমার রশিদ সমূহ
৭। কাস্টমস অফিসারের মন্তব্য
৮। কাস্টমস অফিসারের ছাড়পত্র
৯। কাস্টমস ডেলিভারী অর্ডার
১০। কাস্টমস ডেলিভারী মেমো
১১। কাস্টমস ডেলিভারী ইনভয়েস
১২। নিলাম ক্রেতার অঙ্গিকারনামা
১৩। বিক্রেতার ১৫০ টাকার এফিডেভিট
১৪। ক্রেতার ১৫০ টাকার এফিডেভিট
১৬। টি.ও , টি.টি.ও , বিক্রয় রশিদ
১৭। ক্রেতার টি.আই.এন. সার্টিফিকেট
১৮। মোটরযান পরিদর্শক কর্তৃক গাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন ।
১৯। এইচ ফরম পূরণ
২০। পরিচালক(ইঞ্জিঃ) বিআরটিএ এর অনুমোদন
২১। টাকা জমার রশিদ সমূহ
এরপর রেজিস্ট্রেশন করার প্রক্রিয়া সাধারণ মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন
প্রক্রিয়ার মতই।

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

(লেখাটি স্বত্ব সংরক্ষিত, অন্যত্র কপি/নকল বারিত।তবে স্বত্ব উল্লেখপূর্বক হুবহু প্রিন্ট অথবা শেয়ার করতে বাধা নেই।)

Posted from
Shoaib Rahman
LL.M. Advocate

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: