Leave a comment

মুসলিম আইনের উৎস এবং বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন

মুসলিম আইনের উৎপত্তির উৎস গুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করলে যথাক্রমে –

(ক) কোরআন শরীফ,
(খ) হাদিস (সুন্নাহ),
(গ) ইজমা,
(ঘ) কিয়াস।
এই পবিত্র উৎস্ গুলো থেকে ইসলামিক শরীয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত বিধায় এই আইনকে মুসলিম আইন বলা হয়।

ইসলামিক শরীয়া আইনের মূল উৎস হল ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ, যা মুসলমানদের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্মের দূত বা বার্তা বাহক হিসেবে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), তার জীবদ্দশায় কোরআন এর প্রতিটি নীতি ও বিধান অনুসারে যেভাবে জীবন যাপন করতেন এবং জীবন-যাত্রায় কোরআনের ব্যাখ্যাগুলোর সংকলনই হলো আল-হাদিস। এছাড়া, কোন প্রশ্নের উত্তর যদি সরাসরি পবিত্র কোরআন বা সুন্নাহ তে না পাওয়া গেলে তার মীমাংসার জন্য মহানবী (সাঃ) এর সঙ্গী ও শিষ্যদের মধ্যে ঐক্য মৈত্যের ভিত্তিতে যে সকল সমাধান দেয়া আছে তার সংকলনকে ইজমা বলা হয়। এবং আলোচ্য এই তিনটি উৎসের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনায় সাদৃশ্য মূলক সিদ্ধান্তগুলোই কিয়াস।

এরপরও অনেক অমিমাংসিত প্রশ্নের সমাধান বা সন্দেহ দূর করণ কিংবা স্পষ্টতা আনয়নের জন্য যুগ যুগ ধরে ইসতিহসান , ইসতিসলাহ এবং ইসতিহাদ বা যৌক্তিক ও বাস্তব সম্মত ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই আইনটিকে সমৃদ্ধ করা হয়ে থকে।1

পৃথিবীতে ইসলামিক আইন অনুসারে পরিচালিত কিছু রাষ্ট্রের সকল আইনই শরীয়া আইন অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে যদিও ইসলামিক শরীয়া আইনের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়ে থাকে কিন্তু পশ্চিম বিশ্বেও এখন ইসলামিক আইনের অনেক ব্যবহার দেখা।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ এর বিভিন্ন রায়ের পর্যালোচনায় ইসলামিক আইনের নানা দিকের উপর আলোক পাত করা হয়েছে।

মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ একটি নতুন রাষ্ট্র হলেও এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তত্কালীন বৃহৎ সমগ্র ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার কয়েক শতকের সমৃদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। এর ধারাবাহিকতা হিসেবে এদেশের আইন ব্যবস্থায় পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শরীয়া আইনের প্রতিফলন ঘটেছে, যার মধ্যে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অন্যতম।

এছাড়াও নিম্নবর্ণিত আইনগুলোও নিত্যদিনের পারিবারিক আইনগুলো হলো –

১। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়াহ) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ [the Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937;

২। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (the Muslim Family Laws Ordinance, 1961);

৩। মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা, ১৯৬১ (the Muslim Family Laws Rules, 1961);

৪। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (The Family Courts Ordinance, 1985);

৩। মুসলিম বিবাহ এবং তালাক নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪ [The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974];

৪। মুসলিম বিবাহ এবং তালাক

৫। মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ, ১৯৩৯ (The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939);

৫। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ আইন, ১৯২৯ (The Child Marriage Restraint Act, 1929;

৬। স্বাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫ (the Majority Act, 1875);

৭। অভিভাবক এবং নাবালক সন্তান আইন, ১৮৯০ (The Guardians and Wards Act, 1890;

## বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইনের পর্যালোচনা ও আইন কমিশনের কতিপয় সুপারিশ – ০৯ জানুয়ারী ২০১৩ [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর আইন কমিশন এর রিপোর্ট থেকে উদৃত]

Source– lawofwomen.org

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

Posted from
Shoaib Rahman
LL.M. Advocate

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: