Leave a comment

গ্রেফতার ও তল্লাশী সম্পর্কিত আইনের বিধান:-

গ্রেফতার ও তল্লাশী সম্পর্কিত আইনের বিধান:-

গ্রেফতার সম্পর্কে আইনের বিধান:-

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃক দেহ ও গৃহ তল্লাশির ক্ষেত্রে আইনের বিধি বিধান–

আমলযোগ্য অপরাধ ও অ-আমলযোগ্য অপরাধ বলতে কি বুঝায় ?
আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সেই সকল অপরাধকে বুঝায় যে অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়াই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারবেন এবং আসামীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান মতে, আমলযোগ্য ঘটনার প্রত্যেক টি সংবাদ এজাহার হিসাবে গণ্য হবে এবং সরকারের নির্ধারিত ফরম মোতাবেক বইয়ে নথিভুক্ত হবে।

অ-আমলযোগ্য অপরাধ বলতে সে সকল অপরাধকে বুঝায়, যে সকল অপরাধ সংঘটন হবার পর, প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন ঘটনার তদন্ত করতে পারেন না এবং বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন না। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৫ ধারায় অ- আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার করনীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।
গ্রেফতার,হামলা, মামলা প্রভৃতি শব্দ গুলি  দৈনন্দিন জীবনে যেন স্বাভাবিক ব্যপার ! চলুন সংক্ষেপে জেনে নিই গ্রেফতার সম্পর্কে আইনের বিধানে কি আ(ছ :

-ধারা ৪৬ গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারে বাধা প্রদান-

-ধারা ৪৭ যাহাকে গ্রেফতার করা হইবে, তিনি যেই স্থানে প্রবেশ করিয়াছেন, সেই স্থান তল্লাশি-

-ধারা ৪৮ যেইস্থানে প্রবেশ করা যাইতেছে না, সেইখানে প্রবেশের পদ্ধতি, দরজা ভাঙ্গিয়া জানানা মহলে প্রবেশ-

ধারা ৪৯ মুক্তিলাভের জন্য দরজা ও জানালা ভাঙ্গিবার ক্ষমতা

-ধারা ৫০ প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নিষেধ

ধারা ৫১ আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি

-ধারা ৫৪ যখন পুলিশ পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতার করিতে পারেন

ধারা ৪৬ গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারে বাধা প্রদান
ক) কথা অথবা কার্য দ্বারা হেফাজতে আত্মসমর্পন করা না হইলে পুলিশ অফিসার অথবা গ্রেফতারকারী অপর কোন ব্যক্তি গ্রেফতার করিবার সময় যাহাকে গ্রেফতার করা হইতেছে প্রকৃতপক্ষে তাহার দেহ স্পর্শ বা আটক করিবেন।
খ) এইরূপ ব্যক্তি যদি বলপূর্বক তাহাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধা দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াইতে চেষ্টা করে, তাহা হইলে উক্ত পুলিশ অফিসার অথবা অপর ব্যক্তি গ্রেফতার কার্যকরী করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কৌশল ব্যবহার করিতে পারিবেন।
গ) এই ধারায় এইরূপ কোন অধিকার দেওয়া হয় নাই, যাহাতে মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত নহে, এইরূপ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইতে পারেন।

ধারা ৪৭ যাহাকে গ্রেফতার করা হইবে, তিনি যেই স্থানে প্রবেশ করিয়াছেন, সেই স্থান তল্লাশি-
গ্রেফতারী পরোয়ানা মোতাবেক কার্যরত ব্যক্তি অথবা গ্রেফতারের অধিকারী পুলিশ অফিসারের যদি বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, যেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইবে তিনি কোন স্থানে প্রবেশ করিয়াছেন বা কোন স্থানের মধ্যে আছেন, তাহা হইলে উক্ত স্থানে বসবাসকারী বা উক্ত স্থানের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপরোক্তরুপে কার্যরত ব্যক্তি বা পুলিম অফিসারের দাবিক্রমে তাহাকে অবাধে উক্ত স্থানে প্রবেশ করিতে দিবেন এবং উক্ত স্থানে তল্লাশির জন্য সকল প্রকার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ-সুবিধা দিবেন।
ধারা ৪৮ যেইস্থানে প্রবেশ করা যাইতেছে না, সেইখানে প্রবেশের পদ্ধতি, দরজা ভাঙ্গিয়া জানানা মহলে প্রবেশ-
৪৭ ধারা অনুসারে এইরূপ স্থানে প্রবেশ করা না গেলে, অধিকার ও উদ্দেশ্য জ্ঞাপন এবং যথাযথভাবে প্রবেশের দাবি জানানোর পর যদি অন্যভাবে প্রবেশ করা না যায়, তাহা হইলে পরোয়ানা মোতাবেক কার্যরত ব্যক্তি এবং যেইক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি হইতে পারে কিন্তু যাহাকে গ্রেফতার করা হইবে তাহাকে পলায়নের সুযোগ না দিয়া পরোয়ানা সংগ্রহ করা যায় নাম, সেইক্ষেত্রে পুলিশ অফিসারে পক্ষে উক্ত স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি করা এবং প্রবেশের জন্য কোন গৃহ অথবা স্থানের, এইরূপ গৃত অথবা স্থান, যাহাকে গ্রেফতার করা হইতেছে তাহারই হউক বা অপর কোন লোকের হউক, বাহিরে অথবা ভিতরের দরজা ভাঙ্গিয়া ফেলা আইনসঙ্গত হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ স্থান যদি কোন স্ত্রীলোকের (যাহাকে গ্রেফতার করা হইবে তিনি নহেন) প্রকৃত অবস্থানের অন্তুর্ভুক্ত কোন কামরা হয় এবং যিনি সামাজিক রীতিনীতি অনুসারে জনসাধারণের সম্মুখেই আসেন না, তাহা হইলে উক্তরূপ কার্যরত ব্যক্তি অথবা পুলিশ অফিসার উক্ত কামরায় প্রবেশের পূর্বে উক্ত স্ত্রীলোককে জানাইবেন যে, তিনি অবাধে সরিয়া যাইতে পারেন এবং অতঃপর তিনি কামরা ভাঙ্গিয়া তাহাতে প্রবেশ করিতে পারেন।

ধারা ৪৯ মুক্তিলাভের জন্য দরজা ও জানালা ভাঙ্গিবার ক্ষমতা
গ্রেফতারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি অথবা পুলিশ অফিসার গ্রেফতারের জন্য কোন গৃহ অথবা স্থানে আইনসঙ্গভাবে প্রবেশ করিবার পর তথায় আটকা পড়িলে উক্ত গৃহে অথবা স্থানের কোন বাইরের অথবা ভিতরের দরজা অথবা জানালা ভাঙ্গিয়া বাইির হইতে পারেন।

ধারা ৫০ প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নিষেধ
পলায়ন প্রতিরোধের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির উপর অবশ্যই তাহা অপেক্ষা অধিক বলপ্রয়োগ করা যাইবে না।

ধারা ৫১ আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি
যখন পুলিশ অফিসার কোন ব্যক্তিকে এমন পরোয়ানা অনুসারে গ্রেফতার করেন, যাহাতে জামিনের ব্যবস্থা নাই অথবা জামিনের ব্যবস্থা থাকিলেও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামিন সংগ্রহ করিতে পারেন না। যখন কোন ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয় অথবা কোন সাধারণ নাগরিক যখন পরোয়ানা অনুসারে গ্রেফতার করেন এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আইনত জামিন দেওয়া যায় না, অথবা সে জামিন সংগ্রহ করিতে অসমর্থ হয়-
তখন গ্রেফতাকারী অফিসার অথবা কোন সাধারণ নাগরিক গ্রেফতার করিলে তিনি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যাহার নিকট অর্পণ করেন সেই পুলিশ অফিসার তাহার দেহ তল্লাশি করিতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত তাহার নিকট যাহা পাওয়া যাইবে, তাহান নিরাপদে হেফাজতে রাখিতে পারেন।

ধারা ৫৪ যখন পুলিশ পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতার করিতে পারেন
ক) যেকোন পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অথবা পরোয়ানা ব্যতীত নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণকে গ্রেফতার করিতে পারেন-

প্রথমত– কোন আমলযোগ্য অপারাধের সহিত জড়িত কোন ব্যক্তি অথবা এইরূপে জড়িত বলিয়া যাহার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ করা হইয়াছে অথবা বিশ্বাসযোগ্য খবর পাওয়া গিয়াছে অথবা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ রহিয়াছে।

দ্বিতীয়ত– আইনসঙ্গত অজুহাত ব্যতীত যাহার নিকট ঘর ভাঙ্গিবার কোন সরঞ্জাম রহিয়াছে সেইরূপ ব্যক্তি (এই আইনসঙ্গত অজুহাত প্রমাণ করিবার দায়িত্ব তাহার)

তৃতীয়ত– এই কার্যবিধি অনুসারে অথবা সরকারের আদেশ দ্বারা যাহাকে অপরাধী বলিয়া ঘোষনা করা হইয়াছে।

চতুর্থত– চোরাই বলিয়া যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ করা যাইতে পারে- এইরূপ মাল যাহার নিকট রহিয়াছে এবং যে এইরূপ মাল সম্পর্কে কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া যুক্তিসঙ্গভাবে সন্দেহ করা যাইতে পারে।

পঞ্চমত– পুলিশ অফিসারকে তাহার কার্যে বাধা দানকারী ব্যক্তি অথবা যেই ব্যক্তি আইনসঙ্গত হেফাজত হইতে পলায়ন করিয়াছে, অথবা পলায়নের চেষ্টা করে।

ষষ্ঠত– বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনী হইতে পলায়নকারী বলিয়া তাহাকে যুক্তিসঙ্গভাবে সন্দে করা যাইতে পারে।

সপ্তমত– বাংলাদেশে করা হইলে অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য হইত। বাংলাদেশের বাইরেকৃত এইরূপ কোন কার্যের সহিত জড়িত ব্যক্তি অথবা এইরূপ জড়ি বলিয়া যাহার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ করা হইয়াছে অথবা বিশ্বাসযোগ্য খবর পাওয়া গিয়াছে অথবা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ রহিয়াছে এবং যাহার জন্য সে প্রত্যর্পন- সম্পর্কিত কোন আইন অথবা ১৮৮১ সালের পলাতক অপরাধিী আইন অনুসারে অথবা অন্য কোনভাবে বাংলাদেশে গ্রেফতার হইতে অথবা হেফাজতে আটক রাখিতে বাধ্য।

অষ্টমত– কোন মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী যে ৫৬৫ ধারায় (৩) উপধারা অনুসারে নিয়ম লংঘন করে।

নবমত– যাহাকে গ্রেফতারের জন্য অপর কোন পুলিশ অফিসারের নিকট হইতে অনুরোধপত্র পাওয়া গিয়াছে যদি যাহাকে গ্রেফতার করা হইবে তাহার এবং যেই অপরাধ অথবা অন্য যেই কারণে গ্রেফতার করা হইবে সেই সম্পর্কে উক্ত পত্রে সুস্টষ্ট তথ্য থাকে এবং তাহা হইতে প্রতিয়মান হয় যে, যিনি অনুরোধ প্রেরণ করিয়াছেন। সেই অফিসার উক্ত ব্যক্তিকে আইনসঙ্গভাবে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করিতে পারেন।

–কার্যবিধির ধারা ৮০ অনুসারে ওয়ারেন্ট এর অধীনে গ্রেফতার এর ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওয়ারেন্ট দেখতে চাইতে পারেন ।

–বাংলাদেশ সংবিধান এর অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুসারে; গ্রেফতারকৃত কোন ব্যাক্তিকে আটকের কারন না জানিয়ে আটক রাখা যাবে না ; আটক ব্যাক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের বা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এতে আরও বলা আছে যে, গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তিকে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট হাজির করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশ ব্যাতিত তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং ১৬৭ ধারায় কোনো ব্যক্তিকে ‘গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেয়ার’ বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা ‘বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের’ নির্দেশ:
২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল মহামান্য উচ্চ আদালতের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ সরকার’ মামলায় এবং ২০০৩ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস কে সিনহা (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি শরিফউদ্দীন চাকলাদার ‘সাইফুজ্জামান বনাম বাংলাদেশ সরকার’ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং ১৬৭ ধারায় কোনো ব্যক্তিকে ‘গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেয়ার’ বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা ‘বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। যা আজও যুগান্তকারী ও অত্যাধুনিক নির্দেশনা হিসাবেই আইন পাড়ায় সমাদৃত। তবে দুঃখের বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত মাননীয় বিচারপতিদের সেই রায়টি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানে না এবং আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহামান্য উচ্চ আদালতের সেই যুগান্তকারী রায়টি সঠিকভাবে পালন করছেন না। রায়টি জনস্বার্থে উল্লেখ করা হলো –

এই নির্দেশনাগুলোর আলোকে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলো নিম্নরূপ:

০১। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেবার জন্য পুলিশ কোনো ব্যক্তিকেই ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।
০২। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তাঁর পরিচয় দেবেন এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিসহ উপস্থিত অন্যরাও পরিচয়পত্র দেখাবেন।
০৩। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার দ্রুত গ্রেপ্তারের কারণগুলো (অভিযোগ) লিখে রাখবেন। সেখানে থাকবে- আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য, অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ, যে পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার তথ্য, তথ্যের উৎস ও তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার কারণ এবং স্থানের বর্ণনা, সময়, গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা থানার ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে।
০৪। গ্রেপ্তার ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পেলে পুলিশ তা লিখে রাখবেন এবং কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে বা সরকারি ডাক্তারকে দেখিয়ে চিকিৎসা করে তার কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন।
০৫। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় আনার তিন (০৩) ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তারের কারণ / অভিযোগপত্র তৈরি করবেন।
০৬। কোনো ব্যক্তিকে বাসস্থান বা কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা না হলে তাকে থানায় আনার এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তার আত্মীয়-স্বজনদেরকে টেলিফোনে বা লোক মারফত গ্রেপ্তারের সংবাদ জানাবেন।
০৭। পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দনীয় আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ বা দেখা করার অনুমতি দিতে বাধ্য থাকবেন।
০৮। যখন কোনো গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করা হয়, তখন পুলিশ কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (১) ধারা অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পেশ করবেন যে, কেন ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং কেন তিনি মনে করেন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্যগুলো যুক্তিসংগত ও সুদৃঢ় । একইসঙ্গে তিনি মামলার প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করবেন।
০৯। যদি ম্যাজিস্ট্র্টে তদন্তকারী কর্মকর্তার পাঠানো পত্রে ও মামলার লিখিত ডায়েরির বর্ণনা পড়ে সন্তুষ্ট হন যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্যগুলো যুক্তিসঙ্গত এবং তাকে জেলে রাখার যথেষ্ঠ উপকরণ মামলার ডায়েরিতে রয়েছে, তবে তিনি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেবেন। অন্যথায় তাৎক্ষণিক তাকে মুক্তি দেবেন।
১০। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যুক্তিসঙ্গত না হওয়ায় এবং তাকে জেলে রাখার যথেষ্ট উপকরণ মামলার ডায়েরিতে না থাকায় যদি ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেন তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ (১)(গ) ধারায় ওই ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু করবেন । একইসঙ্গে ওয়ারেন্ট ছাড়া ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কারণে ওই পুলিশ অফিসার দ-বিধির ২২০ ধারা অনুযায়ী বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে বা উৎকোচ নিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।
১১। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট পুনরায় জেলহাজতে পাঠানোর পরও সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তদন্তের প্রয়োজনে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি নিম্নলিখিত শর্তানুযায়ী হতে হবে । শর্তগুলো হলো- জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষটির এক পাশে কাঁচের দেয়াল ও গ্রিল থাকবে, যাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন বা আইনজীবী জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্যটি দেখতে পারেন কিন্তু শুনতে পাবেন না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেবার আবেদনপত্রে জিজ্ঞাসাবাদের বিস্তারিত যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করতে হবে। বিবেচনার জন্য মামলার কেস ডায়েরিটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করতে হবে । যদি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি কারণগুলো লিখে নিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেবেন। তবে সেটা তিন দিনের বেশি অবশ্যই নয়।
১২। যদি ম্যাজিস্ট্র্টে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেবার জন্য পুনরায় আদেশ দেন তবে এই মর্মে নিশ্চিত হবেন যে- গ্রেপ্তারের সময় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো হয়েছিল, পছন্দনীয় আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আগে ম্যাজিস্ট্রেট আটক ব্যক্তির আইনজীবীর বক্তব্যও শুনবেন। ওই ম্যাজিস্ট্রেট আটক ব্যক্তিকে পুনরায় পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর এই আদেশ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার দায়রা জজ/মেট্রোপলিটন দায়রা জজের কাছে পাঠাবেন। অনুমোদন পাওয়ার গেলে হেফাজতে নেয়ার আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই নির্দিষ্ট সরকারি ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ড দ্বারা আটক ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন এবং ডাক্তারি প্রতিবেদন ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করবেন। যদি ম্যাজিস্ট্রেট ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে পুলিশ হেফাজতে আটক ব্যক্তিকে নির্যাতনের বা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পান তবে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯০ (১) (গ) ধারায় ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু করবেন। একইসঙ্গে ওই পুলিশ অফিসার দ-বিধির ৩৩০ ধারা অনুযায়ী, ভিত্তিহীন/ অযৌক্তিক অপরাধে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন/পীড়ন করার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদ-। একই সঙ্গে অর্থদ-ও হতে পারে।
১৩। যদি থানা পুলিশ হেফাজত/জেলখানায় আটক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে তবে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা/তদন্তকারী কর্মকর্তা/তদন্তকারী অফিসার/ জেলার এই মৃত্যুর খবর তৎক্ষণিক কাছের ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন।
১৪। পুলিশ হেফাজতে বা জেলে মৃত্যুর সংবাদ পাবার পর অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেট অতিদ্রুত ঘটনাস্থলে যাবেন এবং কোন ধরনের অস্ত্রে বা কিভাবে শরীরে ক্ষত হয়েছে তা উল্লেখ করে মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন। একইসঙ্গে মৃত ব্যক্তির ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করবেন।
১৫। উপর্যুক্ত নির্দেশনাগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে মেনে না চললে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবমাননার অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।

তল্লাশী সম্পর্কিত আইনের বিধান:-

ধারা ৯৬ কখন তল্লাশি পরোয়ানা দেওয়া যাইতে পারে
ক) যখন কোন আদালতের এইরূপ বিশ্বাস করিবার করাণে ঘটে যে, যেই ব্যক্তির উপর ১৪ ধারা অনুসারে কোন সমন বা আদেশ অথবা ৯৫ ধারায় (১) উপধারা অনুসারে কোন রিকুইজিশন প্রেরণ করা হইয়াছে বা হইতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিজুইজিশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করিবেন না অথবা
যখন এইরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলিয়া আদালতের জানা নাই অথবা
যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বার এই কার্ডবিধি অনুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে সাধিত হইবে।
তখন আদালত তল্লাশি পরোয়ানা প্রদান করিতে পারেন এবং যে ব্যক্তির প্রতি এই পরোয়ানা নির্দেশিত হইবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিবর্ধন করিতে পারিবেন।
খ) এই আইনে বর্ণিত কোন বিধান জেলা ম্যাজিস্ট্যাটের বা চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রক্ষিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু তল্লাশির জন্য পরোয়ানা মঞ্জুর করিবার কর্তৃত্ব দিবে না।

ধারা ১০০ বেআইনীভাবে আটক ব্যক্তির জন্য তল্লাশি</
যখন কোন মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ ঘটে যে, কোন ব্যক্তিকে এমন পরিস্থিতিতে আটক রাখা হইয়াছে যাহাতে আটক রাখা অপরাধে পরিণত হয়। তখন তিনি তল্লাশি পরোয়ানা প্রদান করিতে পারেন এবং যাহার প্রতি পরোয়ানা নির্দেশিত হইবে, তিনি পরোয়ানা অনুসারে উক্ত আটক ব্যক্তির জন্য তল্লাশি করিতে পারিবেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে যদি পাওয়া যায়, তাহা হইলে অবিলম্বে তাহাকে কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করিতে হইবে, এবং তিনি ঘটনার পরিস্থিতি অনুসারে উপযুক্ত আদেশ দিবেন।

ধারা ১০১ তল্লাশি পরোয়ানার নির্দেশ প্রভৃতি
৪৩, ৭৫, ৭৭, ৭৯, ৮২, ৮৩ ও ৮৪ ধারার বিধানসমূহ যথাসম্ভব ৯৬, ৯৮, ৯৯-ক ও ১০০ ধারা অনুসারে প্রদত্ত তল্লাশি পরোয়ানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

ধারা ১০২ আবদ্ধ স্থানের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি তল্লাশি করিতে দিবেন
ক) এই অধ্যায় অনুসারে তল্লাশি বা পরির্দশনযোগ্য কোন স্থান যদি বন্ধ থাকে তাহা হইলে তথায় বসবাসকারী বা উক্ত স্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পরোয়ানা কার্যকারী অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি দাবি করিলে ও পরোয়ানা দেখাইলে তাহাকে অবাধে তথায় প্রবেশ করিতে দিবেন ও তল্লাশির সকল প্রকার যুক্তিসঙ্গত সুবিধা দিবেন।
খ) যদি উক্ত স্থানে প্রবেশ করা না যায়, তাহা হইলে উক্ত অফিসার বা পরোয়ানা প্রয়োগকারী অন্য কোন ব্যক্তি ৪৮ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে অগ্রসর হইতে পারেন।
গ) যে বস্তু সম্পর্কে তল্লাশি হওয়া উচিত, উক্ত স্থানে বা স্থানের নিকট কোন ব্যক্তি উক্ত বস্তু তাহার দেহে লুকাইয়া রাখিতেছে বলিয়া যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ করা যায়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির দেহ তল্লামি করা যাইতে পারে। উক্ত ব্যক্তি স্ত্রীলোক হইলে ৫২ ধারার নির্দেশাবলী অনুসরণ করিতে হইবে।

ধারা ১০৩ সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালাইতে হইবে
ক) এই অধ্যায় অনুসারে তল্লাশি করিবার পূর্বে তল্লাশি করিতে উদ্যত অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি, যেইস্থানে তল্লামি করা হইবে সেই এলাকার দুইজন বা ততোধিক সম্মানিত অধিবাসীকে তল্লাশিতে হাজির থাকিতে ও উহার সাক্ষী হইতে আহ্বান জানাইবেন এবং এইরূপ করিবার জন্য তাহাদিগকে বা তাহাদের যেকোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারিবেন।
খ) তাহাদের উপস্থিতিতে তল্লাশি করিতে হইবে এবং উক্ত অফিসার বা অন্য ব্যক্তি তল্লাশির সময় আটক সমস্ত জিনিস ও যে যে স্থানে সেইগুলি পাওয়া গিয়াছে উহার একটি তালিকা প্রস্তুত করিবেন এবং উক্ত সাক্ষীগণ তালিকায় দস্তখত করিবেন। তবে আদালত যদি বিশেষভাবে সমন দিয় তলব না করেন, তাহা হইলে এই ধারা অনুসারে পরিচালিত তল্লাশির কোন সাক্ষীকে উক্ত তল্লাশির সাক্ষী হিসাবে আদালতে হাজির হইতে নির্দেশ দেওয়া যাইবে না।
যেই স্থানে তল্লাশি করা হয় তথায় উহার বাসিন্দা উপস্থিত থাকিতে পারেন-
গ) তল্লাশিকৃত স্থানের দখলকারী ব্যক্তি অথবা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তল্লাশি সময় হাজির থাকিবার অনুমতি দিতে হইবে এবং উক্ত দখলকারী ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি অনুরোধ করিলে তাহাকে এই ধারা অনুসারে প্রণীত ও উপরোক্ত সাক্ষীগণের স্বাক্ষরিত তালিকার একটি নকল দিতে হইবে।
ঘ) যখন ১০২ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে কোন ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা হইবে, তখন যেই সকল জিনিসের দখল গ্রহণ করা হইল উহার একটি তালিকা প্রস্তুত করিতে হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি অনুরোধ করিলে তাহাকে উহার একটি নকল দিতে হইবে।
ঙ) লিখিত আদেশ দ্বারা আহ্বান জানানো সত্ত্বেও যে ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত এই ধারা অনুসারে পরিচালিত কোন তল্লাশিতে হাজির হইতে ও সাক্ষী হইতে অস্বীকার বা অবহেলা করেন, তিনি দন্ডবিধির ১৮৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

ধারা ১৬৫ পুলিশ অফিসার কর্তৃক তল্লাশি
ক) যখনই থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বা পুলিশ অফিসার তদন্তের সময় যুক্তিসঙ্গত কারণে বিশ্বাস করে যে, যেই অপরাধ সম্পর্কে তদন্তের জন্য তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়াছেন, সেই অপারধের তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কোন জিনিস, তিনি যেই থানার ভারপ্রাপ্ত অথবা তিনি যেই থানার সহিত সংযুক্ত, সেই থানার কোন স্থানে পাওয়া যাইবে এবং তাহার উক্ত অফিসার তাহার মতে অহেতুক বিলম্ব ব্যতীত অন্য কোনভাবে উক্ত জিনিস সংগ্রহ করা যাইবে না, তখন উক্ত অফিসার তাহার উক্তরূপ বিশ্বাসের কারণ ও যেই জিনিসের তল্লাশি করা হইবে, যথাসম্ভব উহার বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত থানার যেকোন স্থান তাহা তল্লাশি করিবেন অথবা তল্লাশি করাইবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, যেই সকল বস্তু ব্যাংকরাস বুকস এভিডেসন্স অ্যাক্ট ১৮৯১ (১৮৯১ সালের ১৮ নম্বর আইন) এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ব্যাংক বা ব্যাংকারের হেফাজতে আছে এবং যাহা কোন ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সহিত যুক্ত কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সহিত যুক্ত কোন বিষয় সংবাদ প্রকাশ করিতে পারে ঔ সমস্ত বস্তু সম্পর্কে  কোন অফিসার তল্লাশি করিবেন না করাইবেন না। কিন্তু দায়রা জজের লিখিত পূর্বানুমতি লইয়া দন্ডবিধির ৪০৩, ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯, ৪২১ হইতে ৪২৪ করা চলিবে এবং হাইকোর্ট বিভাগের লিখিত পূর্বানমতি লইয়া অন্য মামলায় তল্লাশি করা যাইবে।
খ) পুলিশ অফিসার (১) উপধারা অনুসারে কার্য করিবার সময় সম্ভব হইলে ব্যত্তিগতভাবে তল্লাশি পরিচালনা করিবেন।
গ) যদি তিনি নিজে তল্লাশি পরিচালনা করিতে অসমর্থন হন এবং তল্লাশি করিতে পরিচালনার জন্য উপযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তি সেই সময় উপস্থিত না থাকেন, তাহা হইলে তিনি উহার কারণে লিপিবদ্ধ করিয়া তাহার অধঃস্তন কোন অফিসারকে তল্লাশি করিতে বলিবেন এবং তল্লাশির স্থান ও যথাসম্ভব তল্লাশির জিনিসের বিষয় উল্লেখ করিয়া উক্ত অধঃস্তন অফিসারকে একটি লিখিত আদেশ অর্পণ করবেন এবং অতঃপর উক্ত অধঃস্তন অফিসার এইরূপ জিনিসের জন্য উক্ত স্থান তল্লাশি করিতে পারেন।
ঘ) তল্লাশি পরোয়ানা সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানসমূহের এবং ১০২ ও ১০৩ ধারায় বর্ণিত তল্লাশি- সম্পর্কিত সাধারণ বিধানসমূহ যথাসম্ভব এই ধারা অনুসারে পরিচালিত তল্লাশির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
ঙ) উপরোক্ত (১) উপধারা বা (৩) উপধারা অনুসারে প্রণীত দলিলের কোন নকল অবিলম্বে উক্ত অপরাধ আমলে লইবার ক্ষমতাসম্পন্ন নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটএর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং তল্লাশিকৃত স্থানের মালিক বা দখলকার আবেদন করিলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তাহাকে উহার উপর নকল প্রদান করিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, ম্যাজিস্ট্রেট কোন বিশেষ কারণবশত বিনামূল্যে উহা সবরবাহ না করিলে তাহাকে উহার জন্য মূল্য দিতে হইবে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃক দেহ ও গৃহ তল্লাশির ক্ষেত্রে আইনের বিধি বিধান–

বর্তমান প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পুলিশ কোন নাগরিকের গৃহ তল্লাশি করতে পারে দুইভাবে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে:

প্রথমত: আদালত হতে ইস্যুকৃত তল্লাশি পরোয়ানা (Search warrant) বলে।[ফৌ.কা. ধারা-৯৬, ৯৮, ৯৯ক, ১০০; ]

দ্বিতীয়ত: থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা কোন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আইনসঙ্গতভাবে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার অথবা মামলা সংক্রান্তে কোন মালামাল উদ্ধারকল্পে।[ফৌ.কা. ধারা-৪৭ এবং ১৬৫ দ্রষ্টব্য।]

দায়িত্বপ্রাপ্ত এই দুই ধরনের কর্মকর্তা নিজে সরাসরি উপস্থিত থেকেও এই
গৃহতল্লাশি করতে পারেন। কিংবা লিখিতভাবে অপর কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে তা করার অনুরোধ জানালে, অনুরূদ্ধ সেই কর্মকর্তাটিও তাদের পক্ষে এই গৃহতল্লাশি পরিচালনা করতে পারেন।[ফৌ.কা. ধারা-১৬৬ দ্রষ্টব্য।]

উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে গৃহতল্লাশির ক্ষেত্রে ধারা-৪৭ প্রযোজ্য।

এক্ষেত্রে তল্লাশি অফিসারকে কোন নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়ার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু ধারা-১৬৫ শুধুমাত্র রুজুকৃত মামলা সংক্রান্তে কোন মালামাল উদ্ধারের জন্য সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অথবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা এই দু’য়ের অনুরূদ্ধ অপর কোন কর্মকর্তা ছাড়া, এমন তল্লাশি আর অন্য কেউ করতে পারেন না।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ ধারা মোতাবেক যদি কোন স্থানে মাদক দ্রব্য লুকায়িত আছে বলে পুলিশ অফিসার জানতে পারেন , তাহলে ( ইন্সঃ নিম্নে নহে) পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় তল্লাশী করতে পারেন।{মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ ধারা।}

পুলিশ আইনের ২৩(৮) ধারা মোতাবেক পোশাক পরিহিত কর্তব্যরত অবস্থায় যে কোন জুয়ার আড্ডা , সরাইখানা , বিনা পরোয়ানায় তল্লশীর জন্য সার্চ করতে পারেন ।{পুলিশ আইনের ২৩(৮) ধারা।}

আফিম আইনের ১৪ ধারা মোতাবেক কনষ্টেবল এর চেয়ে উপরের যে কোন পুলিশ অফিসার আফিম উদ্ধারের জন্য বিনা পরোয়ানায় তল্লাশী চালাতে পারেন।
{আফিম আইনের ১৪ ধারা।}

সরকারী অফিস গোপনীয় আইনের ১১(২) ধারা মোতাবেক বিনা পরোয়ানায় তল্লাশী চালাতে পারেন।{সরকারী অফিস গোপনীয় আইনের ১১(২) ধারা}

এছাড়াও জুয়া আইনের ৫ ধারা, বিস্ফোরক আইনের ৭ ধারা, আফগারী আইনের ৬৭ ধারা, অস্ত্র আইনের ৩০ ধারার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

উপরে উল্লেখিত ধারা মোতাবেক পুলিশ অফিসার বিনা তল্লাশী পরোয়ানায় তল্লাশী চালাতে পারেন ।

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০২ ও ১০৩- এ পুলিশের তল্লাশির দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকার স্পষ্ট করা হয়েছে।

কোনো স্থান বা বাড়ি তল্লাশির ক্ষেত্রে,

যদি পুলিশ কোনো স্থান বা বাড়িতে তল্লাশি করতে আসে তাহলে তল্লাশির পূর্বে পুলিশ ওই এলাকার গণ্যমান্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে ডাকবেন এবং উক্ত তল্লাশিতে সাক্ষী হতে বলবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাদের একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন। এরপর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুলিশ ওই বাড়ি বা স্থানটি তল্লাশি করবেন। তল্লাশি শেষে আটক জিনিসগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবেন এবং তালিকাটিতে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেবেন। তবে এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, তল্লাশিতে সাক্ষীদেরকে যদি আদালত বিশেষভাবে সমন দিয়ে তলব না করে তাহলে উক্ত সাক্ষীদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া যাবে না।

এছাড়াও তল্লাশিকৃত স্থানের দখলকারী ব্যক্তি অথবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশির সময় উপস্থিত থাকার অনুমতি দিবে পুলিশ। উক্ত দখলকারী ব্যক্তি বা তার পক্ষে প্রতিনিধি অনুরোধ করলে সাক্ষীদের স্বাক্ষরযুক্ত আটককৃত মালামালের তালিকার একটি নকল দিতে হবে।

যদি তল্লাশিযোগ্য কোনো স্থান বন্ধ থাকে বা মুক্তভাবে প্রবেশ করা না যায় তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা পুলিশ ভেতরের বা বাইরের দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে পারবেন। ওই জায়গায় যদি কোনো ব্যক্তি থাকে তাহলে তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন।

কোনো ব্যক্তির তল্লাশির ক্ষেত্রে,

বর্তমানে আমাদের দেশে যেভাবে ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধিতে এ ধরনের তল্লাশির সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩(৪) ধারায় বলা হয়েছে, কার্যবিধি ১০২(৩) ধারা অনুসারে কোন ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যাবে। ধারায় বলা হয়েছে, ‘যে বস্তু সম্পর্কে তল্লাশি হওয়া উচিত, উক্ত স্থানে বা স্থানের নিকট কোন ব্যক্তি উক্ত বস্তু তাহার দেহে লুকাইয়া রাখিতেছে বলিয়া যদি যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ করা যায়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা যাইতে পারে।’

অর্থাৎ যে জিনিসটি পুলিশ তল্লাশি করছে তা যদি ওই ব্যক্তির শরীরের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে বলে সন্দেহ হয় তাহলে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ সন্দেহ করতে পারবে।

উক্ত ধারায় এটাও বলা হয়েছে, সন্দিগ্ধ ব্যক্তি যদি মহিলা হয় তাহলে অন্য আরেকজন মহিলা দ্বারা কঠোর শালীনতার মধ্য দিয়ে তল্লাশি করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারা অনুযায়ী মহিলাদের দেহ তল্লাশির সময় নিন্মে লিখিত বিষয় খুব সতর্কতার সহিত পালন করতে হবে:-
:
-মহিলাদের দেহ তল্লাশি মহিলা পুলিশ দিয়ে করাতে হবে; পুরুষের এ অধিকার নেই।
:
-দেহ তল্লাশির সময় সব শালীনতা রক্ষা করতে হবে। সে সময় কোন পুরুষ লোক সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবে না।
:
– মহিলা পুলিশ না থাকলে স্থানীয় কোন মহিলাকে দিয়ে তল্লাশি করাতে হবে।

সন্দিগ্ধ কোনো স্থান বা বাড়ির তল্লাশির জন্য যেমন দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে থাকতে হয় ঠিক তেমনি ব্যক্তির তল্লাশির ক্ষেত্রেও তা অবশ্যই পালনযোগ্য। ব্যক্তির কাছ থেকে আটককৃত জিনিসের তালিকা করবে পুলিশ এবং ওই ব্যক্তি চাইলেই একটি নকল তাকে দিতে হবে।

১০৩ ধারায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, লিখিত আদেশ দ্বারা আহবান জানানো সত্ত্বেও যে ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তল্লাশিতে উপস্থিত না হয় ও সাক্ষী হতে অস্বীকার বা অবহেলা করেন, তিনি দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছেন বলে ধরা হবে।

ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৩ ধারা সম্পর্কিত উচ্চ আদালতের নির্দেশনাগুলো এমন-

(১) এই ধারা চারটি উদ্দেশ্যে সংযোজন করা হয়েছে। তারমধ্যে একটি হলো, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা তল্লাশি কার্য পরিচালনা করেন, তারা যাতে কোন অসাধুতার আশ্রয় নিতে না পারেন। [27 Cri LJ 73]; [AIR 1931 Rang.333].

(২) এই ধারায় সম্মানিত অধিবাসী বলতে তাকে বুঝায় যিনি নিরপেক্ষ হবেন এবং যাকে তল্লাশি স্থানের মালিক বা প্রতিনিধি প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন। উক্ত অধিবাসীদের মধ্যে কেউ জব্দ তালিকার কপি চাইলে তা সরবরাহ করতে হবে। [15 Cri LJ 441 FB]; [4 DLR 426].

(৩) এই ধারার বিধানসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ ব্যতিরেকে গৃহতল্লাশি করা বা কোন সন্দেহভাজন মালামাল জব্দ করা বৈধ বা আইনীকর্ম বলে গণ্য হবে না। [AIR 1955 All 138 (DB)].

পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গল [পিআরবি] প্রবিধান-২৮০ তে গৃহতল্লাশি পরিচালনা বিষয়ে দেয়া হয়েছে আরও সুস্পষ্ট ও সুনিদির্ষ্ট নির্দশনা। এখানে বলা হয়েছে

(ক)…তল্লাশি পরিচালনাকারী কর্মকর্তা একদিকে ঘরের অধিবাসীদের অজ্ঞাতসারে ঘরের মধ্যে কোন জিনিষ প্রবেশ করার এবং অন্যদিকে ঘরের মধ্যে হতে কোন জিনিষ বের করার সম্ভাবনা রোধকল্পে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন। ঘরের মালিকের উপস্থিতিতে অথবা তার মনোনীত কোন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তল্লাশি চালাতে হবে। তল্লাশির সাক্ষীদের উপস্থিতিকে কেবলমাত্র একটা আনুষ্ঠানিকতা মনে করা যাবে না। বরং তারা প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ তল্লাশি কার্যক্রমের প্রত্যক্ষদর্র্শী হবেন এবং কোথায় জিনিষটি পাওয়া গেল, তা স্পষ্টভাবে দেখতে সমর্থ হবেন। অত:পর তারা তল্লাশি তালিকায় স্বাক্ষর/টিপসহি করবেন। ঘরের মালিক বা যে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মালামাল জব্দ (seize) করা হয়েছে, সে তল্লাশি চলাকালে উপস্থিত থাকলে তাকেও তালিকায় প্রথমে স্বাক্ষর করতে বলা হবে। যদি তাতে সে অস্বীকার করে, তবে এ সম্পর্কে একটি মন্তব্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং সাক্ষীদের দ্বারা তা সত্যায়িত করে নিতে হবে। ঘরের মালিক, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অথবা তার প্রতিনিধিকে এই তল্লাশি তালিকার একটি অনুলিপি দিয়ে তার নিকট থেকে স্বীকারপত্রে স্বাক্ষর নিতে হবে। যদি এই স্বীকারপত্রেও সে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে, তাহলেও এ সম্পর্কেও একটি মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে তা সাক্ষীদের দ্বারা তা সত্যায়িত করে নিতে হবে।

যদি তল্লাশিকালে সন্দেহভাজন কোন মালামালই পাওয়া না যায়, তবে ‘জব্দকৃত কোন মালামাল নাই’ মর্মে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে উপরিল্লিখিত একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

(খ) যদি নির্দিষ্ট কোন জিনিষ বিশেষ কোন স্থানে বা বিশেষ কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে জানা যায় অথবা যুক্তিসঙ্গতভাবে এইরূপ সন্দেহ করা হয়, তবে কেবলমাত্র সেইক্ষেত্রেই বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি চালানো যেতে পারে। সাধারণভাবে পরোয়ানা ব্যতীত তল্লাশি বেআইনী। কেবলমাত্র ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৫ ধারানুসারেই বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি করা যায়। তবে তদন্তের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কিছু সুনির্দিষ্ট জিনিষ থাকা আবশ্যক এবং এরূপ জিনিষ কোন বিশেষ স্থানে আছে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ঠ যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে। তল্লাশিতে বিলম্ব হলে সেই জিনিষ উদ্ধারে বিঘ্ন ঘটতে পারে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তার ডায়েরীতে এমন বিশ্বাসের ভিত্তি এবং যে জিনিষ তিনি খোঁজ করছেন তার নাম উল্লেখ করবেন।

অত:পর ফৌ.কা. ১৬৫ ধারানুযায়ী নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এর অনুলিপি যত শীঘ্র সম্ভব পাঠাবেন।

কোন গৃহের দখলদার দাগী দুশ্চরিত্র কিংবা ফেরারী আসামী, শুধুমাত্র এই অযুহাতেই সে জায়গায় বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি চালানো যাবে না।

(ঘ) তল্লাশি শুরু করার পূর্বে তল্লাশি পরিচালনা করবেন এমন প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তা, তাদের সহকারী, সংবাদদাতা প্রমূখদের দেহ- তল্লাশিতে অংশগ্রহনকারী সাক্ষীগণ, গৃহকর্তা অথবা তার প্রতিনিধির সামনে পরীক্ষা করতে হবে।

(ঙ) এমনভাবে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে, যেন গৃহবাসীদের জন্য, বিশেষ করে, মহিলাদের তাতে যথাসম্ভব কম অসুবিধা ঘটে।

(ছ) তল্লাশিতে কত সংখ্যক সাক্ষী উপস্থিত থাকা প্রয়োজন তা নির্দিষ্ট অবস্থার উপর নির্ভর করে। তবে মনোনীত সাক্ষীগণের একই এলাকার বা পাশ্ববর্তী এলাকার অধিবাসী হওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে এ ধরনের অধিবাসীকে লিখিতভাবে তল্লাশি সাক্ষী হওয়ার জন্য আদেশ দেয়া যেতে পারে।

(জ) যতদূর সম্ভব সাক্ষীরা যাতে সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষ বা পুলিশের সাথে সম্পর্কযুক্ত না হয় এবং তারা যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বলে বিবেচিত হতে পারে, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি সম্ভব হয়, স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার সদস্য বা গ্রামের প্রধাণ ব্যক্তিকেও তল্লাশি কর্মকান্ড দেখার জন্য উপস্থিত রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই কোন গুপ্তচর, অভ্যস্ত মদ্যপ বা সন্দেহভাজন চরিত্রের লোককে তল্লাশি সাক্ষী হিসেবে তলব করা যাবে না। আগ্রহী কোন ব্যক্তিকে তল্লাশি সাক্ষী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণসমূহ তল্লাশিকারী কর্মকর্তা কেস ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করবেন।

(ঝ) যখন বেআইনী অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কোন গৃহতল্লাশি চালানো প্রয়োজন হবে, তখন অস্ত্র আইনের ২৫ ধারানুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে অবশ্যই পরোয়ানা সংগ্রহ করতে হবে। বেআইনী অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কোন পুলিশ অফিসার নিজ উদ্যেগে গৃহতল্লাশি করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন।[অস্ত্র আইনের ২৫ ধারা দ্রষ্টব্য]।

(ঞ) গৃহতল্লাশির সময় নিয়ম বহির্ভূত কার্যকলাপ রোধ করার উদ্দেশ্যেই তল্লাশি পরিচালনাকারী কর্মকর্তা জব্দ করেছেন এমন মালামালের তালিকার তিনটি অনুলিপি ৪৪ নং বিপি ফরমে প্রস্তুত করবেন এবং তল্লাশি শেষে সেই প্রস্তুতকৃত তালিকার একটি অনুলিপি গৃহকর্তা বা তার প্রতিনিধিকে, একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এবং একটি অনুলিপি তার নিজের কাছে রাখবেন।

তল্লাশিকারী কর্মকর্তা এমনভাবে তল্লাশি চালাবেন যেন উপস্থিত সাক্ষীদের মনে এইরূপ কোন সন্দেহ করার কোন অবকাশই না থাকে যে- তল্লাশিকারী কর্মকর্তাগণ, তাদের সঙ্গীয় কনস্টেবলগণ, সহযোগি চৌকিদারগন কিংবা তাদের প্রভাবাধীন অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক কতগুলো জিনিষ গোপনে ঘরে প্রবেশ করিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে সেগুলো উক্ত তল্লাশির স্থান হতে উদ্ধারকৃত প্রকৃত জিনিষসমূহের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।

সাক্ষীদেরকে তল্লাশির সকল স্থানে অবাধ প্রবেশাধিকার এবং সেখানে যা কিছু ঘটে তা দেখতে ও শুনতে সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

ডিএমপি এলাকার জন্যও অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য, যা বিধৃত আছে ডিএমপি(থানা)রুলস এর বিধি-১০৬ এ।
এই হলো দেহ , গৃহ তল্লাশি সম্পর্কিত আইনের বিধান।

তাই সংশ্লিষ্ট কোন পুলিশ কর্মকর্তা যদি এই বিধানের ব্যত্যয় করে, তবে তা আইন বহির্ভূত বা বেআইনী কাজ বলে গণ্য হবে। সেই বেআইনী কাজটির জন্য তার শাস্তি হতে পারে এক বছরের কারাদন্ড। যা বিধৃত আছে দন্ডবিধি ধারা-১৬৬ এবং ডিএমপি অধ্যাদেশ ধারা-৫১ ও ৫২ তে।

উপরের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা প্রচলিত আইনের বরখেলাপ করে তল্লাশি কার্য পরিচালনা করে তাহলে তার পরিণাম বা শাস্তি কি হবে সেই বিষয়টি।

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: