Leave a comment

জমি হতে বেদখল হলে প্রতিকার:

আদালতের শরনাপন্ন হয়ে:

যদি জমি হতে বেদখল হওয়া ব্যক্তিটি মনে করেন যে গ্রাম্য প্রধান/মাতব্বর ব্যক্তিগণের নিকট শরনাপন্ন হয়ে তিনি উপযুক্ত প্রতিকার পাবেন না মর্মে আশংকা করেন কিংবা গ্রাম্য প্রধান/মাতব্বর ব্যক্তিগণের নিকট শরনাপন্ন হওয়ার পরও কোনো প্রতিকার না পান তাহলে সেক্ষেত্রে জমি হতে বেদখল হওয়া ব্যক্তিটি সরাসরি আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবেন।

কোন আদালতে?

ফৌজদারী আদালত  অথবা দেওয়ানী আদালত

ফৌজদারী আদালতে: 

(১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা মতে)

যদি কোনো ব্যক্তি তার দখলকৃত জমি হতে (মালিকানা থাক বা না থাক) হঠাত্‍ করে বেদখল হয়ে যান কিংবা কোনো ব্যক্তি তাকে জোড় পূর্বক ভাবে বেদখল করে তাহলে জমি হতে বেদখল হওয়ার পর তাকে ফৌজদারী আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলা সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

কতদিনের মধ্যে?

বেদখল হওয়ার তারিখ হতে ২ মাসের  মধ্যে

কোথায়?

ঐ এলাকার এখতিয়ার/আদালতের নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য নিয়োজিত ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করতে হবে।

উল্লেখ্য যে জমি হতে বেদখল হওয়ার আশংকা থাকলেও আশংকার তারিখ হতে ২ মাসের মধ্যে ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উপরোক্ত ধারায় মামলা করা যাবে।

দেওয়ানী আদালতে: 

(১৮৭৭ সালের সুনিদিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে)

যদি কোনো ব্যক্তি তার দখলকৃত জমি হতে হঠাত্‍ করে বেদখল হয়ে যান কিংবা কোনো ব্যক্তিকে জোড় পূর্বকভাবে বেদখল করা হয় তাহলে জমি হতে বেদখল হওয়া ব্যক্তি বেদখল হওয়ার পর দেওয়ানী আদালতে মামলা করতে হবে।

কতদিনের মধ্যে?

বেদখল হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে।

কোথায় মামলা করতে হবে?

  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার সহকারী জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।
  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি ২ লাখ ১ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার সিনিয়র সহকারী জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।
  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি  ৪ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার যুগ্ন জেলা জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।
  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি ৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে অসীম পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।

উল্লেখ্য যে যদি কোনো ব্যক্তি তার দখলকৃত জমি হতে বেদখল হয়ে যায় এবং ঐ বেদখল হওয়া জমিটিতে তার মালিকানা থাকে তাহলে ঐ জমিটিতে দখল ফিরে পাবার জন্য বেদখল হওয়ার পর এখতিয়ার ভুক্ত দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। (১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ এবং ৪২ ধারা )

কতদিনের মধ্যে?

বেদখল হওয়ার তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মামলা করতে

কোথায় মামলা করতে হবে?

  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার সহকারী জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।
  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি ২ লাখ ১ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার সিনিয়র সহকারী জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।
  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি  ৪ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার যুগ্ন জেলা জজের নিকট মামলা দায়ের করতে হবে।
  • বেদখল সম্পত্তির মূল্য যদি ৫ লক্ষ ১ টাকা থেকে অসীম পর্যন্ত হয় তাহলে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার জেলা জজ অথবা অতি

মামলা করার পদ্ধতি:

যদি কোনো ব্যক্তি তার দখলে থাকা জমি হতে বেদখল হয়ে যায় কিংবা তাকে জোর পূর্বকভাবে তাকে বেদখল করা হয় তাহলে তিনি প্রথমে একজন এডভোকেটের কাছে গিয়ে জমি হতে বেদখলের ঘটনাটি সম্পূর্ণ খুলে বলবেন এবং ঘটনা শোনার পর বিজ্ঞ এডভোকেট সাহেব মামলা করার জন্য লিখিত আরজি প্রস্তুত করে তাকে পড়ে শোনাবেন এবং শোনার পর আরজির সাথে উপযুক্ত কোর্ট ফি সংযুক্ত করে বাদীর স্বাক্ষর করার নির্দিষ্ট স্থানে তথা আরজির উপরে ডান পাশ্বে স্বাক্ষর করে আদালতে দাখিল করতে হবে৷

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: