Leave a comment

মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধনী আইন, ২০০৯

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ফি পুনঃনির্ধারণ ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে দায়বদ্ধতাসহ ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালায় সংশোধনী এনেছে সরকার। ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট প্রণীত বিধিমালায় বেশকিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ায় দুই বছরের মধ্যে এ সংশোধনী আনা হলো। সংশোধনী সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং-৮৪/২০১১) জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সনদপত্র পরীক্ষা করে বর-কনের বিয়ের জন্য আইনগত বয়স নিশ্চিত না হয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে পারবেন না। এসব কাগজপত্র না থাকলে বর-কনের বয়স নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাবা-মা কিংবা আইনগত অভিভাবকের দেয়া হলফনামার মাধ্যমে বর-কনের বয়স নির্ধারণ করতে হবে। এসবের পর বিয়ে নিবন্ধনের সময় বর ও কনে বা অন্য কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোন বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হলে, সে ক্ষেত্রে এ জন্য নিকাহ রেজিস্ট্রার দায়ী থাকবেন না।

বয়স প্রমাণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

যেহেতু আইন অনুযায়ী ছেলের বয়স ২১, আর মেয়ের বয়স ১৮ হওয়া বাঞ্চনীয়। তাই বয়স প্রমানের জন্য বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ বা জুনিয়র সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষার সনদ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে রেজিষ্ট্রার সাহেব বিবাহ রেজিষ্ট্রি করবেন। উল্লেখিত কাগজপত্র না থাকলে বর ও কনের মাতা, পিতা বা আইনানুগ অভিভাবক বয়স সংক্রান্ত হলফনামা প্রদান সাপেক্ষে বিবাহ রেজিষ্টি করবেন।


মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন ফি-

একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের প্রতি এক হাজার টাকা দেনমোহর বা এর অংশবিশেষের জন্য ১২ দশমিক ৫০ টাকা হারে বিবাহ নিবন্ধন করতে পারবেন। দেনমোহরের পরিমাণ ৪ লাখ টাকার অধিক হলে পরবর্তী প্রতি ১ লাখ টাকার দেনমোহর বা এর অংশবিশেষের জন্য ১ooশত’ টাকা বিবাহ নিবন্ধন ফি আদায় করতে পারবেন। তবে দেনমোহরের পরিমাণ যাই হোক না কেন সর্বনিম্ন ফি  ২ooশত’ টাকার কম হবে না।

একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনের জন্য ৫00শত’ টাকা ফি গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া নকল প্রাপ্তি ফি ৫০ টাকা, যাতায়াত বাবদ ফি প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা হারে এবং তালাশি ফি ১০ টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।


রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধঃ

মুসলিম আইনে রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রেজিস্ট্রেশন না করলে ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড হতে পারে। তবে বিয়েটি বাতিল হবে না।

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: