Leave a comment

ভূমির পরিমাপ:-

ভূমির পরিমাপ:-
ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপ হলো:

(১) ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
(২) কাঠা,
(৩) বিঘা এবং
(৪) একর
এই পরিমাপ সর্ব এলাকায় সর্বজন গৃহীত। এটা “সরকারি মান” ( Standard Measurement) বলে পরিচিত।

১৬ ছটাক = ১/ কাঠা
০.০১৬৫ অযুতাংশ = ১/কাঠা
০.৩৩ শতাংশ বা ০.৩৩০০ অযুতাংশ = ১ বিঘা
২০ (বিশ) কাঠা = ১ বিঘা
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক = ৬০.৫ কাঠা

টিকাঃ
একশত শতাংশ বা এক হাজার সহস্রাংশ বা দশ হাজার অযুতাংশ= ১.০০ (এক) একর। দশমিক বিন্দুর (.) পরে চাষ অঙ্ক হলে অযুতাংশ পড়তে হবে।

৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর ধরে
৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর
৪৩৫৬০ বর্গফুট= ১ একর
১৬১৩ বর্গগজ= ১ বিঘা
১৪৫২০বর্গফুট= ১ বিঘা
৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ
৮০.১৬ বর্গগজ= ১ কাঠা
৭২১.৪৬ বর্গফুট= ১ কাঠা
৫.০১ বর্গগজ = ১ ছটাক
২০ বর্গহাত = ১ ছটাক
১৮ ইঞ্চি ফুট= ১ হাত (প্রামাণ সাই)

১ বিঘা = (৮০ হাত×৮০ হাত) ৬৪০০ বর্গহাত
১ বিঘা = ২০ কাঠা
১ কাঠা = ১৬ ছটাক
১ ছটাক = ২০ গন্ডা
১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট
১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
১ ছটাক = ৪৫ বর্গফুট

লিঙ্ক এর সাথে ফুট ও ইঞ্চির পরিবর্তন
লিঙ্ক = ৭.৯ ইঞ্চি
৫ লিঙ্ক = ৩ ফুট ৩.৬ ইঞ্চি
১০ লিঙ্ক = ৬ ফুট ৭.২ ইঞ্চ
১৫ লিঙ্ক = ৯ ফুট ১০.৮ ইঞ্চি
২০ লিঙ্ক = ১৩ ফুট ২.৪ ইঞ্চি
২৫ লিঙ্ক = ১৬ ফুট ৬.০ ইঞ্চি
৪০ লিঙ্ক = ২৬ ফুট ৪.৮ ইঞ্চি
৫০ লিঙ্ক = ৩৩ ফুট
১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট

একর হেক্টর হিসাব:-
১ হেক্টর = ১০,০০০
১ হেক্টর = ২.৪৭ একর
১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা
১ হেক্টর = ১০০ একর

আমাদের দেশে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারের মাপ ঝোক প্রচলিত রয়েছে। এগুলো হলো কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাদি। অঞ্চলে ভেদে এই পরিমাপগুলো আয়তন বিভিন্ন রকমের হয়ে তাকে। বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমির পরিমাপ বিভিন্ন পদ্ধতিতে হলেও সরকারি ভাবে ভূমির পরিমাপ একর, শতক পদ্ধতিতে করা হয়। সারাদেশে একর শতকের হিসাব সমান।

কানিঃ
কানি দুই প্রকার। যথা-
(ক) কাচ্চা কানি
(খ) সাই কানি

কাচ্চা কানি: ৪০ শতকে এক বাচ্চা কানি। কাচ্চা কানি ৪০ শতকে হয় বলে একে ৪০ শতকের কানিও বলা হয়।

সাই কানিঃএই কানি কোথাও ১২০ শতকে ধরা হয়। আবার কোথাও কোথাও ১৬০ শতকেও ধরা হয়।

কানি গন্ডার সাথে বিভিন্ন প্রকারের পরিমাপের তুলনা:-

২ কানি ১০ গন্ডা (৪০ শতকের কানিতে) = ১ একর
১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট
১ কানি = ১৯৩৬ বর্গগজ
১ কানি = ১৬১৯ বর্গমিটার
১ কানি = ৪০ বর্গ লিঙ্ক
১ একর = ১০ বর্গ চেইন
১ একর = ১০০ শতক
১ একর = ৪,০৪৭ বর্গমিটার
১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক
১ একর = ৬০.৫ কাঠা
১ শতক = ১ গন্ডা বা ৪৩২.৬ বর্গফুট

জমির চারটি প্রধান ডকুমেন্ট:-
১। দলিল এবং বায়া দলিল (বা বিক্রেতার মূল দলিল)
২। খতিয়ান
৩। ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট)
৪। খাজনা দাখিলা

১। দলিল এবং বায়া দলিল:
মূল দলিলে মালিকের নাম, এবং কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে সেই তথ্য উল্লেখ থাকে। এছাড়া জমির তফসিল পরিচয় বা ঠিকানার বর্ণনা (মৌজা, দাগ নম্বর, জমির চতুর্দিকে সীমানা নির্ধারনী স্থাপনা) উল্লেখ করা হয়।

বায়া দলিল হল জমিটি যার কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে সেই মালিকের দলিল। বায়া দলিল ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জমির পূর্বতন সকল কেনাবেচার দলিল থাকা প্রয়োজন।

২। খতিয়ান:
খতিয়ান বা পর্চা হল জমির মালিকের নাম ও ঠিকানার লিস্ট। অন্যভাবে বলা যায়, জমির স্বত্বাধিকারীর ইতিহাস বা মালিকানার রেকর্ড।

সাধারনত মাঠপর্যায়ের ভূমি জরিপের সময় খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। তবে, কেনাবেচার পর বা মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকের নামে মিউটেশন করার পর খতিয়ান জারি করা হয়। বায়া দলিলের মতই, পুরোনো সকল খতিয়ান সংরক্ষণ করা জরুরী।

বাংলাদেশের জন্মের পূর্বলগ্ন থেকে এপর্যন্ত মোট চারটি জরিপ করা হয়েছে। এগুলো হলো সময়ের ক্রমানুসারে:

সিএস: (কেডেস্ট্রাল সার্ভে): ১৮৮৫ সালে শুরু এই জরিপ প্রথম বারের মত জমির রেকর্ড হিসেবে পরিচিত। জরিপ কার্য ১৮৯৮ সালে শেষ হয়।

আরএস: (রিভিশনাল সার্ভে): সিএস এর ভুলত্রুটি সংশোধন করে প্রায় ৫০ বছর পর এই জরিপ খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।

এস এ (স্টেট একুইজিশন সার্ভে): ১৯৫০ সালে জমিদারি জমি অধিগ্রহনের পর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

বি এস (বাংলাদেশ সার্ভে): সর্বশেষ এই জরিপ ১৯৯০ সালে পরিচালিত হয়। ঢাকা অণ্চলে মহানগর জরিপ হিসেবেও পরিচিত।

৩। ডিসিআর:
মূল মালিকের নামে খাজনা নির্ধারনের আগে, এই নোটিশ জারি হয়। ডকুমেন্ট এর মূল কপি থাকে ভূমি অফিসে, মালিককে কার্বন কপি দেয়া হয়।

এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা স্বত্ত্ব দাবি করতে লাগবে সাকসেশন সার্টিফিকেট। বর্তমানে এই সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশন অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়।

দলিলে ব্যবহৃত কিছু অপ্রচলিত শব্দের অর্থ:
পর্চা: জরিপ চলাকালীন অবস্থায় খতিয়ানের যে খসড়া প্রস্তুত করা হয় তার অনুলিপি।
গং: গয়রহ বা সকল
দোং: পিতা
জং: স্বামী
আং: স্বামী
জমা: খাজনা
কস্য: দলিল মালিকের নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত প্রতিশব্দ
তছদিক: প্রমান
ফারায়েজ: মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ইসলামি নিয়মানুসারে  বন্টন
হেবা: দানপত্র

লেখক :
সোয়েব রহমান
এলএল.এম.
অ্যাডভোকেট
Posted from Advocate Shoaibur Rahman Shoaib

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: