Leave a comment

প্রধান বিচারপতি হবেন স্পিকারের সমমর্যাদার | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2015/01/07/172355

২৮ বছর আগে জারি করা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব
প্রিসিডেন্স) তালিকা অবৈধ ও বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো.
মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। হাইকোর্টের দেওয়া রায় থেকে কিছু অংশ বাদ, কিছু অংশ পরিবর্ধন এবং পর্যবেক্ষণ ও অভিমত দিয়ে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

গতকালের সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছে, ‘আপিল ডিসপোজড অফ উইথ এক্সপাংশন,মোডিফিকেশন, অবজারভেশন অ্যান্ড ফাইন্ডিংস।’এ রায়ের পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের মৌখিক রায়ের সারমর্ম হচ্ছে, এখন থেকে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম তালিকার ৩ নম্বরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সমমর্যাদায় থাকবেন প্রধান বিচারপতি।

বর্তমানেপদমর্যাদাক্রমেস্পিকারের অবস্থান ৩ নম্বরে এবং প্রধান
বিচারপতির অবস্থান ৪ নম্বরে। এ ছাড়া নতুন পদমর্যাদাক্রমে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন হবেন। বর্তমান তালিকায় আপিল বিভাগের বিচারপতিদের অবস্থান
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার।অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন পদমর্যাদাক্রমে হাইকোর্টের বিচারপতিরা প্রতিমন্ত্রীর
পদমর্যাদার ওপরে থাকবেন। আর সংসদ সদস্য, অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য
সাংবিধানিক পদধারীদের অবস্থান হবে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরে।এ ছাড়া জেলা জজদের অবস্থান হবে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পদমর্যাদার।আসাদুজ্জামানের ভাষ্য মতে,
হাইকোর্ট বর্তমান রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বাতিল করে ৬০দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে আপিল দায়েরের পর হাইকোর্টের,রায়টি স্থগিত করা হয়। এবার আপিল বিভাগের রায়েও হয়তো নতুন রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম করার নির্দেশনা থাকবে।রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে ১
নম্বরে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, ২-এ রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে প্রধান বিচারপতির পদমর্যাদাক্রম
স্পিকারের সঙ্গে ৩ নম্বর ক্রমিকে ছিল। কিন্তু ১৯৮৬ সালে করা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে তা পরিবর্তন করে প্রধান বিচারপতিকে ৪ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়। এতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের অবস্থান রাখা হয় সচিবদের নিচে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিম্ন আদালতের বিচারকদের সংগঠন’বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে তৎকালীন মহাসচিব মো. আতাউর রহমান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনের
ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট জেলা জজদের মর্যাদা সচিবদের নিচে দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না,তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
এ রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০১০সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে ১৯৮৬ সালের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদমর্যাদাক্রম ঠিক করে নতুনভাবে রাষ্ট্রীয়
পদমর্যাদাক্রম তৈরিসহ আট দফা নির্দেশনা দেন। এসব
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- সব সাংবিধানিক পদ অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে প্রথমে রাখতে হবে। এর পরে যাবে সংবিধান স্বীকৃত
পদগুলো। যেমন- জেলা জজ, তিন,বাহিনীর প্রধানগণ। সংবিধানে জেলা জজ বলতে যেহেতু অতিরিক্ত জেলা জজও বোঝায়, তাই অতিরিক্ত জেলা জজ, মুখ্য মহানগর হাকিম ও মুখ্য বিচারিক হাকিমদের জেলা জজদের পরপরই রাখতে হবে।
এরপর রাখতে হবে প্রজাতন্ত্রের সচিবদের।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আপিল করে সরকার। সেই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রায় দেন
আপিল বিভাগ। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষেআইনজীবী ছিলেন আসাদুজ্জামান।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন বিশেষভাবে নিযুক্ত
আইনজীবী আব্দুর রব চৌধুরী।

Posted from Advocate Shoaibur Rahman Shoaib

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: